Prottashitoalo

৭দিনের ব্যবধানে সেই ৫ শিশুর মৃত্যু

0 15

কুষ্টিয়া প্রতিনিধিঃ কুষ্টিয়া ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে গত মঙ্গলবার (০২ নভেম্বর) সকালে একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম দিয়ে ছিলেন সাদিয়া খাতুন নামে এক গৃহবধূ। ওজন কম হওয়ায় এক সপ্তাহের ব্যবধানে একে একে সেই পাঁচ শিশুরই মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (০৯ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে স্ক্যানো ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সর্বশেষ শিশুরশিশুর মৃত্যু হয়।

এর আগে বুধবার (০৩ নভেম্বর) দুপুর ১২টা, আড়াইটা, বিকেল ৩টা এবং রাত ১২টার দিকে স্ক্যানো ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এক ছেলে ও তিন কন্যাশিশুর মৃত্যু হয়।

প্রথমবারের মতো ৫ সন্তানের জন্ম দেন প্রসূতি সাদিয়া খাতুন (২৪)। গর্ভধারণের ৫ মাসের মাথায় জন্ম হওয়ায় শিশুদের ওজন কম হয়েছিল। প্রথম থেকে মা সুস্থ থাকলেও শিশুগুলো ঝুঁকিতে ছিল।বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আবদুল মোমেন।

তিনি বলেন, নবজাতকরা প্রথম থেকেই ঝুঁকিতে ছিল। ওজন কম হওয়ার কারণে এক ছেলে ও চার মেয়ে নবজাতকের মৃত্যু হয়েছে। আমরা তাদের সুস্থ করে তোলার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম।

শিশুদের বাবা সোহেল রানা বলেন, একসঙ্গে জন্ম নেওয়া আমার এক ছেলে ও চার কন্যা সন্তানের সবাই একে একে মারা গেছে। খুবই কষ্ট লাগছে। তাদের মা সুস্থ আছে। শিশুর ওজন কম হওয়ায় ঢাকায় নিয়ে যেতে বলেছিলেন চিকিৎসক৭দিনের ব্যবধানে সেই ৫ শিশুর মৃত্যু । কিন্তু অর্থের অভাবে ঢাকায় নিতে পারিনি।

শিশুদের দাদা সামাদ আলী বলেন, আমরা দরিদ্র মানুষ। আমাদের অর্থনৈতিক অবস্থা ভালো না। ছেলের চা দোকানের আয়ে সংসার চলে। টাকার অভাবে শিশুদের ঢাকায় নিয়ে যেতে পারিনি। যদিও চিকিৎসকরা প্রথম থেকেই ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। টাকার অভাব না থাকলে হয়তো শিশুদের ঢাকায় নিয়ে যেতে পারতাম। সবগুলো শিশু বেঁচে থাকলে এবং একসঙ্গে বেড়ে উঠলে ভালো লাগত।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের কর্তব্যরত চিকিৎসক শিশু বিশেষজ্ঞ মো. শাহীন আক্তার সুমন বলেন, তাদের ওজন কম হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজের শিশু বিভাগে অথবা শিশু হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল।কিন্তু তারা নিয়ে যাননি। বাচ্চাদের সুস্থ করে তোলার জন্য আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম। বাচ্চাগুলোর ওজন ৫০০-৬০০ গ্রাম ছিল। এমন কম ওজনের বাচ্চা বাঁচানো কঠিন।

Comments
Loading...