Prottashitoalo

৫ বছর ঘুমিয়ে কেটেছে এক ব্রিটিশ তরুণীর!

0 6

ঘুমন্তপুরীর রাজকন্যা’র গল্প মনে আছে নিশ্চয়? ছোটবেলায় আমরা সবাই কম বেশি এই গল্প শুনেছি। যে গল্পে, দুষ্টু পরীর অভিশাপের জন্যে ঝুমপুরীর রাজকন্যা ঘুমিয়েছিল বছরের পর বছর। মাথার কাছে সোনার কাঠি ও পায়ের কাছে থাকে থাকতো রূপার কাঠি। হঠাৎ এক রাজপুত্র এসে সেই কাঠি দিয়ে জাগিয়ে তুলেছিল ঘুমন্তপুরীর কন্যাকে। তবে এই ঘটনা যে সত্যিও হতে পারে তা কি ভেবেছেন কখনো?

রূপকথার সেই গল্পের মতোই ব্রিটিশ তরুণী বেথের কাহিনী। এই গল্পের শুরু ২০১১ সালের নভেম্বর মাস। ইংল্যান্ডের স্টকপোর্ট শহরে সাজানো গোছানো ছোট্ট একটি বাড়িতে তখন আয়োজন চলছে জন্মদিনের। বেথ গুডিয়ার ১৭তম জন্মদিন। মেয়ের জন্মদিন উপলক্ষে সব কিছু নিজের মনের মতো করে সাজিয়ে তুলছিলেন বেথের মা।

সেদিন সকাল থেকেই বন্ধুবান্ধব আর কাছের আত্মীয় স্বজনরা হাসি-আনন্দে বেথকে ঘিরে রেখেছিলো। কিন্তু কেক কাটতে যাওয়ার একটু আগে কোনো এক কারণে ক্লান্ত লাগতে শুরু করে বেথের। সকাল থেকে বন্ধুদের ফোন, হৈ-হুল্লোড় এসবের মাঝে হয়তো ক্লান্ত হয়ে পড়েছে এই ভেবে একটু বিশ্রাম নেয়ার জন্য শরীরটাকে সোফায় এলিয়ে দিতেই ঘুমিয়ে পড়ে বেথ। অনেক ডাকাডাকির পরও নাকি ঘুম ভাঙলোনা বেথের।

আরো পড়ুন: পাহাড়ের চূড়ায় ঝুলন্ত কফিনে প্রিয়জনদের সমাধি!

এভাবেই ৫ বছর নাকি সে ঘুমিয়েছে। বেথের পরিবার পাগলের মতো চিকিৎসা করাতে থাকে। শেষে জানা যায়, এক বিরলতম রোগে আক্রান্ত ১৭ বছরের বেথ। সেই রোগের নাম ক্রেন লেভিন সিনড্রোম (কেএলএস) অথবা স্লিপিং বিউটি সিনড্রোম (sleeping beauty syndrome)।

এই জটিল অসুখে স্নায়ুদুর্বলতা এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, মাসের পর মাস ঘুমিয়ে পড়ে থাকে মানুষটি। রোগীর মধ্যে এতটাই অবসাদ আর ক্লান্তি কাজ করে যে খিদে বেড়ে যায়, আর মেজাজও চড়ে থাকে।

বেথ গুডিয়ারের অসুখের সঙ্গে এই রোগের মিল থাকলেও রোগ দুটি ছিল চরিত্রগত ভাবে আলাদা। শুরুর দিকে বেথের মধ্যে মূলত ক্লেন লেভিন সিনড্রোম ( কেএলএস ) -ই ছিল।

বয়ঃসন্ধিকালের ছেলেমেয়েদের এই রোগ হতে পারে। রোগীর ঘুমের প্রকোপ এতটাই বেড়ে যায় যে দিনের অধিকাংশ সময়টাই ঘুমিয়ে থাকে। অনেক সময় একটানা বেশ কয়েকদিনও কেটে যায় ঘুমিয়ে।

প্রথম দফায় টানা প্রায় ছ’মাস গড়ে বাইশ ঘণ্টা ঘুমাতো বেথ। জন্মদিনের পর থেকে পাঁচ বছর ৮৫% সময়ই ঘুমিয়ে ছিল মেয়েটি। প্রায় এক দশক অতিক্রান্ত হওয়ার পরও সুস্থ নয় সে। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭

Comments
Loading...