৪ কোটি শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ চান অভিভাবক
prottashitoalo
Prottashitoalo

৪ কোটি শিক্ষার্থীর টিউশন ফি মওকুফ চান অভিভাবক

0 ৫৩

দীর্ঘ ছুটিতে স্থবির হয়ে পড়েছে শিক্ষাকার্যক্রম। কবে খুলবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সেটি এখনো অনিশ্চিত। প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকলেও শিক্ষার্থীদের বেতন ও টিউশন ফি আদায়ে অনড় অনেক প্রতিষ্ঠানপ্রধান। এক দিকে স্কুল-কলেজ বন্ধ অন্য দিকে অভিভাবকদেরও অনেকের কাজ নেই, আয়ও নেই। এ অবস্থায় ছেলেমেয়েদের স্কুল-কলেজের বেতন ও টিউশন ফি মওকুফের দাবি জানিয়েছেন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম। শিক্ষার্থীদের টিউশন ফি মওকুফের জন্য ইতোমধ্যে উচ্চ আদালত থেকে রুলও জারি করা হয়েছে।

করোনার এই দুর্যোগে দেশের প্রাথমিক পর্যায় থেকে বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত সর্বত্রই এখন এক স্থবির অবস্থা বিরাজ করছে। প্রাথমিকের প্রথম সাময়িক পরীক্ষা ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে। মাধ্যমিকের সব পরীক্ষাও বাতিল। করোনার কারণে এসএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি হিসেবে দশম শ্রেণীর প্রি-টেস্ট পরীক্ষা নেয়া যায়নি। স্থগিত হয়ে যাওয়া এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা কবে নেয়া হবে সেটি অনিশ্চিত।

অভিভাবকরা যখন সন্তানের পড়ালেখা নিয়েই বেশি চিন্তিত তখন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা ব্যাংকের মাধ্যমে বিকাশে কিংবা সরাসরি স্কুল-কলেজের অফিসে গিয়েও বেতনভাতা পরিশোধের তাগিদ দিচ্ছেন। যদিও এ বিষয়ে বেতনভাতা আদায় বন্ধে অভিভাবকদের দাবি থাকা সত্ত্বেও শিক্ষা মন্ত্রণালয় কিংবা শিক্ষা অধিদফতর থেকে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না। এ অবস্থায় অভিভাবক ঐক্য ফোরামের পক্ষ থেকে শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে তারা প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন জানিয়েছেন যাতে বন্ধ থাকা অবস্থায় কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের বেতন বা টিউশন ফি আদায় না করা হয়। দেশের স্কুল-কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের স্বার্থরক্ষাকারী অভিভাবকদের সংগঠন অভিভাবক ঐক্য ফোরাম দেশের ৪ কোটি শিক্ষার্থীর অভিভাবকদের পক্ষ থেকে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ে টিউশন ফি ও বেতন মওকুফের দাবি জানিয়েছে। অভিভাবক ঐক্য ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা মো: জিয়াউল কবির দুলু জানিয়েছেন, আমরা শিক্ষামন্ত্রীর মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী বরাবরে শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের পক্ষে দাবি জানিয়েছি। বুধবার দাবি-দাওয়া জানিয়ে একটি চিঠিও ই-মেইলে শিক্ষামন্ত্রী বরাবরে পাঠিয়েছি।

ডা: দীপু মনিকে লেখা চিঠিতে তিনি বলেন, শিক্ষামন্ত্রী হিসেবে মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব গ্রহণের পর শিক্ষা ক্ষেত্রে অনেক গুণগত পরিবর্তন সাধন করেছেন, যা সর্বমহলে প্রশংসিত। আপনার নেতৃত্বে বাংলাদেশের শিক্ষাব্যবস্থা যখন এগিয়ে যাচ্ছিল তখন বিশ্বব্যাপী কোভিড-১৯ নামের অদৃশ্য করোনাভাইরাস বিশ্বকে থমকে দেয়। সমস্ত বিশ্ব লকডাউন হয়ে পড়ে। আমাদের দেশে করোনাভাইরাস রোগী শনাক্ত হওয়ার পর মানুষের জীবন বাঁচানো এবং স্বাস্থ্যের কথা বিবেচনা করে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও আপনার নির্দেশে ১৭ মার্চ ২০২০ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণার পর ২৬ মার্চ থেকে সমগ্র দেশে সাধারণ ছুটি ঘোষণা করা হয়। জনগণের স্বাস্থ্য ও জীবনের নিরাপত্তার জন্য বারে বারে ছুটি বাড়ানো হয়।

চিঠিতে তিনি আরো বলেন, শিক্ষাবান্ধব প্রধানমন্ত্রী ও আপনি জাতি গড়ার কারিগর শিক্ষক সমাজের দুর্দশার কথা বিবেচনায় নিয়ে নন-এমপিও শিক্ষকদেরও বিশেষ প্রণোদনা দেয়ার মহৎ উদ্যোগ নিয়েছেন। করোনায় সব কিছু স্থবির হয়ে পড়ায় শতকরা ৮০ ভাগ অভিভাবকের আয়ের পথ বন্ধ হয়ে পড়েছে। সন্তানদের লেখাপড়ার ব্যয়ভার বহন করতে অভিভাবকদের বেশি কষ্ট হওয়ায় অনেক ছাত্রছাত্রীর লেখাপড়া বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনা আছে। এমতাবস্থায় বর্তমানে বৈশ্বিক মহামারী করোনাকালীন দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনা করে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত ছয় মাসের টিউশন ফি (ছাত্রবেতন) মওকুফ করে নতুন একটি নির্দেশনা দেবেন বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

 

web site
Comments
Loading...