Prottashitoalo

১৮ মাস পর খুললো ঢাবির হল, মানতে হবে নির্দেশনা

0 11

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘ ১৮ মাস বন্ধ থাকার পর খুলেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) আবাসিক হলগুলো। মঙ্গলবার (৫ অক্টোবর) সকাল ৮টা থেকে নিজ নিজ হলে উঠতে শুরু করেছেন শিক্ষার্থীরা। হলের আবাসিক শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিচ্ছেন।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের আগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের আবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে উঠতে পারছেন।

এদিকে ১৮ মাস পর হলে উঠতে পেরে উচ্ছ্বসিত শিক্ষার্থীরা। দীর্ঘদিন পর দেখা হওয়ায় একে অপরের খোঁজ খবর নিচ্ছেন তারা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় স্যার এ এফ রহমান হলের আবাসিক শিক্ষার্থী হৃদয় আহমেদ বলেন, ‘সকাল সকাল হলে উঠতে পেরে খুবই আনন্দ লাগছে। হলের স্যাররাও অনেক আন্তরিক। দীর্ঘদিন পর হলে আসলাম। কতটা আনন্দ লাগছে বুঝাতে পারবো না।’ স্নাতকোত্তরের শিক্ষার্থী শোভন হোসেন বলেন, ‘অসাধারণ অনুভুতি। আমরা দীর্ঘদিন ক্যাম্পাস থেকে বিচ্ছিন্ন ছিলাম। এখানে এসে মনে হচ্ছে আমরা পুনরায় জীবিত হলাম। আমাদের জীবনের যে কলরব ছিলো তা আবার ফিরে পেয়েছি।’

শিক্ষার্থীদের বরণ করতে পেরে বেশ আনন্দিত হলের প্রাধ্যক্ষ ও হলের আবাসিক শিক্ষকরা। বিষয়টি নিয়ে, স্যার এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. কে এম সাইফুল ইসলাম খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাই হল খুলে দেওয়ার জন্য। শিক্ষার্থীদের বরণ করতে পেরে আমরা বেশ আনন্দিত। আমাদের বিশ্বাস শিক্ষার্থীদের কলরবে হল আবার সরব হয়ে উঠবে ক্যাম্পাস।

এর আগে এক বিজ্ঞপ্তিতে ঢাবি প্রশাসন জানায়, পূর্বঘোষিত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুধু স্নাতক শেষ বর্ষ এবং স্নাতকোত্তরের যে সকল আবাসিক শিক্ষার্থী অন্ততঃ ‘কোভিড-১৯’-এর প্রথম ডোজ টিকা নিয়েছে, তারা স্বাস্থ্যবিধি অনুসরণ করে টিকা গ্রহণের কার্ড/সনদ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বৈধ পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে দেখিয়ে আগামী ৫ অক্টোবর সকাল ৮টা থেকে থেকে নিজ নিজ হলে উঠতে পারবেন।

জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতারুজ্জামান আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টায় বিজয় একাত্তর হল ও সকাল সাড়ে ১০টায় বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব হল পরিদর্শন করবেন।

আরো পড়ুন: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি পরীক্ষা শুরু

এদিকে আবাসিক হল ব্যবহারে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছে ঢাবি প্রশাসন। এরমধ্যে উল্লেখ্যযোগ্য হলো-

১। কক্ষের বাইরে আসলে সবাইকে বাধ্যতামূলকভাবে নিয়মিত ও সার্বক্ষণিক সঠিক নিয়মে নাক-মুখ ঢেকে মাস্ক পরিধান করতে হবে।

২। স্বাস্থ্যবিধি পালনে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।

৩। স্বাস্থ্যবিধি অনুযায়ী পরস্পরের কাছ থেকে কমপক্ষে ১ মিটার (৩ ফুট) শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখতে হবে।

৪। কক্ষের মেঝেতে শোয়া যাবে না, এক বিছানায় একাধিক ব্যক্তি শোয়া যাবে না। কেবলমাত্র আবাসিক ও দ্বৈতাবাসিক শিক্ষার্থীরা হলে অবস্থান করতে পারবে। কোনো বহিরাগত বা বাহির থেকে আসা কাউকে কক্ষে অবস্থান করতে দেওয়া যাবে না।

৫। প্রয়োজন সাপেক্ষে কক্ষে এবং কক্ষের বাহিরে অবশ্যই মাস্ক ব্যবহার করতে হবে।

৬। শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ কক্ষ এবং কক্ষের প্রয়োজনীয় আশপাশ সবসময় নিজ দায়িত্বে পরিষ্কার রাখতে হবে এবং এক্ষেত্রে হল প্রশাসন সহযোগিতা প্রদান করবে।

৭। হল ডাইনিং, ক্যান্টিন, মেস, দোকান, সেলুন, রিডিংরুম, অডিটোরিয়াম, টিভিরুম, অতিথি কক্ষ, পাঠাগার, মসজিদ ও উপাসনালয়ে ভিড় করা যাবে না। উক্ত স্থানসমূহে শারীরিক ও সামাজিক দূরত্ব বিধি অনুসরণ এবং মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। ডাইনিং-এ পালাক্রমে খাবার খেতে হবে।

৮। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত অতিথি কক্ষে শিক্ষার্থীদের সমাবেশ বন্ধ রাখতে হবে। বেড়াতে ও ঘুরতে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং সভা-সমাবেশ, রেস্তোরাঁ, পার্টি ও গণপরিবহন এড়িয়ে চলতে হবে।

উল্লেখ্য, মহামারি করোনার কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে দফায় দফায় বন্ধ বাড়িয়ে চলতি মাসের ১২ সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল-কলেজ খুলে দেয়া হয়।

Comments
Loading...