Prottashitoalo

হিটলারের ৫০ কোটি পাউন্ড গুপ্তধনের সন্ধান!

0 6

‘অ্যাডলফ হিটলার’ ইতিহাসের এক ঘৃণিত নাম। এই একনায়কের নিষ্ঠুর প্রতিহিংসার কারণেই পৃথিবীর ইতিহাসে ঘটেছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। সেই যুদ্ধে তার নির্মমতায় রক্তে ভেসে গিয়েছিল পৃথিবীর বিশাল জনপদ। চরম ইহুদি বিদ্বেষী হিটলার হত্যা করেছিলেন পৃথিবীর প্রায় দুই-পঞ্চমাংশ ইহুদিকে।

১৯৪৩ সালে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির নাজি বাহিনী দ্বারা যে ব্যাপক হারে ইহুদি হত্যা করা হয়েছিল, তা ইতিহাসে হলোকাস্ট নামে পরিচিত। এ হলোকাস্টে ৬০ লাখের ওপর ইহুদি হত্যা করা হয়েছে বর্বরোচিতভাবে, যা থেকে অবোধ শিশু ও বৃদ্ধরাও রক্ষা পায়নি। অন্যদিকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় হিটলারের এই নাৎসি বাহিনী অনেক ধনসম্পদ লুট করে লুকিয়ে রাখে, যা আজও অপ্রকাশিত।

তবে হিটলারের নাজি বাহিনীর লুকানো ৪৮ বাক্স গুপ্তধনের খোঁজ মিলেছে! দক্ষিণ পোল্যান্ডে অবস্থিত অষ্টাদশ শতাব্দীর একটি প্রাসাদেই লুকিয়ে রাখা রয়েছে হিটলারের এই গুপ্তধন। যার আনুমানিক মূল্য ৫০ কোটি পাউন্ড। এই সম্পদের খোঁজে মাটি খুঁড়তে শুরু করেছেন গুপ্তধন শিকারিরা। এই অভিযানে নেতৃত্ব দিচ্ছে সাইলেসিয়ান ব্রিজ ফাউন্ডেশন।

গুপ্তধন পাওয়ার ব্যাপারে খুব আশাবাদী সাইলেসিয়ান ব্রিজ ফাউন্ডেশনের রোমান ফার্মানিয়াক। তিনি জানান, এই প্রাসাদ লিজ নেয়ার পর প্রথমে প্রেমিকাকে লেখা ভনের একটি চিঠি পাওয়া যায়। সেই সাথে আরো কিছু নথিও উদ্ধার হয়। এই সব নথি থেকে মোট ১১টি গুপ্তধনের খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল। আর ওই চিঠি থেকে জানা যায়, গুপ্তধনের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রেমিকাকে অনুরোধ করেছিলেন ভন।

জানা যায়, দক্ষিণ পোল্যান্ডের মিনকওস্কিইয়ে রয়েছে ওই প্রাসাদ। সাবেক প্রুসিয়ার জেনারেল ফ্রেডরিচ উইলহেম ভন সেদলিজ এটি বানিয়েছিলেন। ভন নিযুক্ত ছিলেন হিটলারের সেনাবিাহিনীতে। এই প্রাসাদে তার প্রেমিকা থাকতেন। প্রেমিকার সঙ্গে দেখা করতে আসতেন তিনি। কখনো কখনো প্রাসাদে থেকেও যেতেন। সেই তখন থেকেই গুপ্তধন লুকিয়ে রাখার নিরাপদ জায়গা হিসাবে এই প্রাসাদকেই বেছে নিয়েছিলেন তিনি। ভনের মতো হিটলার বাহিনীর আরও অনেক সেনাই এই প্রাসাদে সোনা, গয়না, মুল্যবান জিনিস লুকিয়ে রাখতেন।

পোল্যান্ডের এই প্রাসাদে রয়েছে হিটলারের গুপ্তধন। ছবি- সংগৃহীত
পোল্যান্ডের এই প্রাসাদে রয়েছে হিটলারের গুপ্তধন। ছবি- সংগৃহীত

এই প্রাসাদে সে সময় মূলত নাজি বাহিনীর পতিতালয় ছিল। সেই সূত্রেই এই প্রাসাদে যাতায়াত শুরু হয়েছিল ভন এবং অন্যান্য হিটলারের সেনার। সেনাবাহিনীর প্রভাবশালী লোকেদের নিত্য যাতায়াত ছিল এখানে। সেনা অফিসারদের নির্দেশেই সোনা, গয়না ইত্যাদি লুকিয়ে রাখার জন্য এই প্রাসাদকেই বেছে নিয়েছিলেন তারা। উদ্দেশ্য ছিল দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ শেষের পর এই গুপ্তধন দিয়ে সাম্রাজ্য পুনরুদ্ধার করবেন হিটলার।

আরো পড়ুন: স্বপ্নে মৃত্যু ও সাপ দেখার অর্থ কি জানেন?

বিশেষজ্ঞদের অনুমান, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষের দিকে এই সম্পত্তি লুঠ করা হয়েছিল। এই গুপ্তধনের বেশির ভাগটাই বিত্তবান জার্মানদের। এই অঞ্চলের বিত্তবান জার্মানরা সে সময় রাশিয়ার সেনার আগ্রাসন থেকে নিজেদের রক্ষা করার বিনিময়ে মূল্যবান গয়না-সহ বহুমূল্য জিনিস হিটলার বাহিনীর কাছে সমর্পন করেছিলেন। প্রাসাদের বিভিন্ন জায়গায় নাকি লুকনো রয়েছে সে সব সম্পত্তি। নীল নকশা বানিয়ে সেগুলিকেই খুঁড়ে বের করার তোড়জোড় শুরু হয়েছে।

গবেষণায় জানা গিয়েছে, রাশিয়ার সেনা পোল্যান্ডের দখল নেয়ার পর ভনের সেই প্রেমিকা নাম বদলে প্রাসাদেই থাকছিলেন। তিনি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর একজনের সঙ্গে বিয়েও করে নেন। কিন্তু প্রেমিক ভনের অনুরোধে গুপ্তধনের বিষয়টি সারাজীবন লুকিয়েই রেখেছিলেন।

পরবর্তীকালে প্রাসাদটি রাশিয়ার সেনাবাহিনীর সদর দফতর হয়ে ওঠে। পরে হয়ে যায় সিটি হল অফিস, তার পর একটি সিনেমা হলে পরিণত হয় এটি। বার বার হাতবদল হলেও গুপ্তধনের খোঁজ কেউ পাননি। এক সময়ে লোকের ভিড়ে গমগম করা সেই প্রাসাদ আজ ভগ্নপ্রায়। তাও সকলের চোখ এড়িয়ে বুকের মধ্যে কোটি কোটি টাকার সম্পদ আগলে রেখেছে সে।

পোল্যান্ডের রোজটোকার একটি প্রাসাদেও গুপ্তধনের সন্ধান মিলেছে। কিন্তু নথি অনুযায়ী, ওই প্রাসাদের কুয়োর ৬৪ মিটার গভীরে ওই গুপ্তধন লুকনো রয়েছে। যা খুঁড়ে বার করা দুঃসাধ্য। সে তুলনায় মিনকওস্কিইয়ের এই প্রাসাদের তলায় লুকিয়ে রাখা ৪৮ বাক্স গুপ্তধন খুঁড়ে বার করা নাকি অনেক সহজ কাজ। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Comments
Loading...