হবিগঞ্জে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যুবকের মাজার স্থাপন
prottashitoalo
Prottashitoalo

হবিগঞ্জে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে যুবকের মাজার স্থাপন

0 ৫৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি : হবিগঞ্জে লাখাই উপজেলা পরিষদের ভিতরে প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ে মাজার স্থাপন করেছে এক যুবক। বিশেষ ব্যক্তির প্রাচীন ‘কবর’ রয়েছে দাবি করে সেখানে মাজার স্থাপন করেছে স্থানীয় এক যুবক। মাজার আকৃতির স্থাপনা তৈরি করে কয়েকটি রঙিন নিশানা টাঙিয়ে নিয়মিত মোমবাতি জ্বালিয়ে সেখানে অবস্থান করছে সে। অফিসের কর্মচারীরা তাকে বাধা দিলে ধারালো ছোরা দিয়ে ভয় দেখাচ্ছে তাদের।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, উপজেলা প্রশাসনকে বিষয়টি জানালেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ হয়নি এখনও। লাখাই উপজেলা পরিষদের ভেতরেই প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার কার্যালয়। সরকারি এ কার্যালয়ের সীমানা প্রাচীরের ভিতরে মাজার তৈরি করে দীর্ঘদিন থেকে সেখানে অবস্থান করছে পার্শ্ববর্তী কাটিহারা গ্রামের এক যুবক। তিনি সেখানে নিয়মিত মোমবাতি জ্বালিয়ে মাজারের বিভিন্ন কার্যক্রম পালন করছেন তিনি।

দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিষেধ করার পরও গায়ের জোরেই এসব কাজ করে যাচ্ছেন ওই যুবক। কিন্তু দীর্ঘদিন এসব অপকর্ম চলতে থাকলেও প্রশাসন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।

প্রাণী প্রাণিসম্পদ কার্যালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জানান, এখানে কখনো কোনো ব্যক্তির কবর ছিল না। ওই লোক মিথ্যা দাবি নিয়ে সেখানে মাজার স্থাপন করে রেখেছেন। কার্যালয়ের গেট বন্ধ করে রাখলেও দেয়াল টপকে ভেতরে ঢুকে যাচ্ছেন তিনি। তার আচরণে দাপ্তরিক কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত সৃষ্টি হচ্ছে। অনেক সময় প্রবেশপথ বন্ধ থাকলে ধারালো ছোরা দিয়ে গেইটে আঘাত করে ছিদ্র ছিদ্র করেছে এ যুবক। এতে নিরাপত্তাহীনতায় থাকেন দায়িত্বশীলরা।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, এখানে কোন কবর ছিল না। মাজারের নামে ভূমি দখলের চেষ্টা করছে এ যুবক। উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. আবু হানিফ জানান, আমি এখানে নতুন এসেছি। আমরা তাকে এখান থেকে সরাতে চাইলে সে মারমুখি আচরণ করে। সরকারি দপ্তরের ভেতর ওই যুবক জোরপূর্বক মাজার স্থাপন করে সমস্যার সৃষ্টি করছেন। প্রবেশপথ বন্ধ রাখলেও ধারালো অস্ত্র দিয়ে গেটে আঘাত করতে থাকেন। তিনি বলেন, আমি বিষয়টি উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি। উপজেলা সমন্বয় কমিটির সভায়ও বিষয়টি অবহিত করেছি। আমরা তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি।

এ ব্যাপারে লাখাই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং জানান, বিষয়টি আমাকে জানানো হয়েছে। পরিদর্শন শেষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। লাখাই থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সাইদুল ইসলাম জানান, বিষয়টি আমার জানা নাই। আমার কাছে কেউ এ ব্যাপারে কোন অভিযোগও করেননি। সরকারি দপ্তরে কেউ যদি এ ধরনের কাজ করে অভিযোগ পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

web site
Comments
Loading...