Prottashitoalo

সাইবার আক্রমণ থেকে সতর্ক থাকতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা

0

সারাদেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন শুরু হচ্ছে আজ সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে। এমন পরিস্থিতিতে ব্যাংকগুলোর জন্য বেশ কিছু নির্দেশনা জারি করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এর মধ্যে সাইবার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি ক্রেডিট কার্ডের বিল পরিশোধের তারিখ সরকার ঘোষিত সার্বিক কার্যাবলি বা চলাচলে নিষেধাজ্ঞা আরোপের সময়সীমার মধ্যে থাকলে তা নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার ৫ কর্মদিবস পর্যন্ত বাড়ানোর জন্যও নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

গতকাল রবিবার (৪ এপ্রিল) বাংলাদেশ ব্যাংকের পেমেন্ট সিস্টেমস ডিপার্টমেন্ট এ সংক্রান্ত এক নির্দেশনা দিয়ে দেশের সব তফসিলি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহীদের কাছে পাঠিয়েছে।

নির্দেশনায় বলা হয়েছে, সার্বক্ষণিকভাবে এটিএম, ইন্টারনেট, অ্যাপ ও ইউএসএসডি ভিত্তিক লেনদেন সেবা চালু রাখতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে। এজন্য সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি এবং পিএসওগুলোকে স্ব স্ব সিস্টেম অবকাঠামোর ওপর সতর্ক নজরদারি রাখতে বলা হয়। সাইবার আক্রমণের ঝুঁকি মোকাবিলার জন্য ই-মেইল, ফিশিং ই-মেইল আক্রমণ প্রভৃতি বিষয়ে বিশেষ নজরদারি পরিচালনা করবে; পরিবর্তিত পরিস্থিতি অনুযায়ী সব অবকাঠামো যথারীতি চালু রাখতে হবে এবং এ সংক্রান্ত নিরাপত্তা ও সাইবার ঝুঁকির বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে।

সব ব্যাংক, এমএফএস, পিএসপি এবং পিএসও প্রতিষ্ঠানসমূহ স্ব স্ব গ্রাহক, মার্চেন্ট ও সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে লেনদেন সংক্রান্ত প্রতারণা ও স্যোশাল মিডিয়া, ই-মেইল, মোবাইল ফোনের মাধ্যমে কভিড-১৯ ভিত্তিক আর্থিক প্রতারণার বিষয়ে সতর্ক করবে এবং বর্তমানে প্রচলিত পদ্ধতির পাশাপাশি নিজস্ব ওয়েবসাইটেও সতর্কতামূলক বার্তা প্রদর্শন করতে ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

ব্যাংক ও পরিশোধ সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে অভিযোগ গ্রহণ ও পরামর্শ প্রদানের জন্য ২৪/৭ হটলাইন ও ইন্টারনেটভিত্তিক গ্রাহক সেবা চালু রাখতে হবে।

আরো পড়ুন: অর্ধেক জনবল দিয়ে চলবে ব্যাংক

বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নির্দেশনায় আরো বলা হয়, গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী সরবরাহের জন্য ব্যাংকের ক্যাশ কাউন্টার, অটোমেটেড টেলার মেশিন (এটিম), এজেন্ট ব্যাংকিং-এর এজেন্ট পয়েন্ট এবং মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস)-এর এজেন্ট পয়েন্টগুলোতে নগদ অর্থ ও ই-মানি (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) সরবরাহের সেবা নিরবচ্ছিন্নভাবে নিশ্চিত করবে এবং লেনদেনের স্থানগুলো অর্থাৎ ব্যাংক, এটিএম, পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) ও এজেন্ট পয়েন্টগুলো নিয়মিতভাবে জীবাণুমুক্ত ও হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয় ব্যাংকগুলোকে। ব্যাংক ও সব ধরনের আর্থিক সেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান পরিশোধ সেবা প্রদানকারী ও গ্রহণকারী সংশ্লিষ্ট সবার জন্য সরকারের ঘোষিত স্বাস্থ্যবিধি পরিপালন নিশ্চিত করতে বলা হয়।

নির্দেশনায় আরো বলা হয়, সরকারের ঘোষিত নিষেধাজ্ঞা আরোপকালে যদি ক্রেডিট কার্ডের বিলের সময় পার হয়ে যায়, তবে কেবল মূল অঙ্কের টাকার ওপর সুদ আরোপ করতে পারবে ব্যাংক। তবে পরবর্তী মাসের বিলে, পূর্ববর্তী মাসের বিলের সুদের ওপর নতুন কোনো সুদ আরোপ করা যাবে না।

এছাড়া প্রযুক্তিভিত্তিক লেনদেনের সীমাও কিছুটা বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যেসব কার্ড দিয়ে কেনাকাটার সময় কার্ডটি দূর থেকে ধরেই লেনদেন করা যায়, সে ধরনের কার্ডের প্রতিটি লেনদেনের ব্যয় সীমা ৩ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ৫ হাজার টাকা করা হয়েছে।

মোবাইল ব্যাংকিংয়ে সেন্ড মানির মাসিক সীমা ৭৫ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ২ লাখ টাকা করা হয়েছে। বিদ্যমান পদ্ধতিতে সেন্ড মানির ক্ষেত্রে একজন গ্রাহককে কোনোভাবেই এক মাসে বিনাচার্জে ৪০ হাজার টাকার বেশি সেন্ড মানির সুবিধা দেওয়া যাবে না। তাছাড়া একজন গ্রাহক আরেকজন গ্রাহককে সর্বোচ্চ ১০ হাজার টাকা বিনা খরচে সেন্ড মানি করতে পারবেন।

নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যাদি ও ওষুধ বিক্রেতা প্রতিষ্ঠানের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ব্যাংকিং হিসাব, এজেন্ট ব্যাংকিং হিসাবকে ব্যবসায়িক লেনদেনর জন্য ব্যবহার করা যাবে।

web site
Comments
Loading...