Prottashitoalo

যে শহরের বাসিন্দারা মরে না!

0 6

জন্ম, মৃত্যু, বিয়ে; এই তিনটি জিনিস বিধাতার হাতে। তার ইশারা ছাড়া এই তিনটির কোনো কিছুই হবে না। অর্থাৎ আমাদের পৃথিবীতে জন্ম নেয়া, জীবন ধারণ এবং মৃত্যু বরণ; সব কিছু আগে থেকেই লিখে রেখেছেন বিধাতা।

জন্ম হলে সব জীবকেই একদিন মৃত্যুর স্বাদ নিতে হবে। এটাই চির সত্য। তবে শুনলে অবাক হবেন, এই পৃথিবীতে এমন এক শহরের অস্তিত্বও রয়েছে যেখানকার বাসিন্দারা মারা যেতে পারেন না! এটাই নাকি সেখানকার মানুষদের বিশ্বাস। অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটিই এখনো তারা সত্যি বলে মেনে আসছেন।

সেই বিশেষ জায়গার নাম লংইয়ারবিন শহর। নরওয়ের সালবার্ডের কেন্দ্রে গড়ে ওঠা এই শহরে মাত্র দুই হাজার মানুষের বসবাস। স্ক্যান্ডিনেভিয়ানের উত্তর ইউরোপের তিনটি দেশ নরওয়ে, সুইডেন ও ডেনমার্কের জন্য দেয়া নাম। এদের মধ্যে নরওয়ে ও সুইডেন স্ক্যান্ডিনেভীয় উপদ্বীপ হিসেবে গড়ে উঠেছে।

দেশ তিনটি ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত দিক থেকে পরস্পরের সঙ্গে মিশে রয়েছে। এই স্ক্যান্ডিনেভিয়ানে একসময় নাকি শোনা যায় যে অন্যতম বৃহৎ কয়লাখনি ছিল। এই কয়লা খনিতে কাজ করা শ্রমিকদের জন্য লংইয়ারবিনে একটি জায়গা ঠিক করে দেয়া হয়। খাড়া পাহাড় আর হিমবাহ দিয়ে ঘেরা নিরিবিলি জায়গা হিসেবে রয়েছে অ্যাডজেন্টফোর্ড।

আরো পড়ুন: ৩ হাজার বছরের পুরোনো সোনার শহরের সন্ধান!

অ্যাডজেন্টফোর্ডেরই উপকূলে রয়েছে লংইয়ারবিন। ২০০০ সালের দিকে যখন এই শ্রমিকরা এই জায়গা ছেড়ে চলে না গিয়ে সেখানেই স্থায়ীভাবে বাস করা শুরু করে, তখন এটি পরিণত হয় ছোট্ট শহরে। ধীরে ধীরে সেখানে পর্যটন শিল্পের বিকাশও ঘটতে থাকে। বাসিন্দারা যে কঠিন নিয়মগুলি মানেন সেই নিয়মগুলো তৈরি করা হয়েছে সেখানকার কঠিন আবহাওয়ার জন্য।

বছরের দীর্ঘ একটা সময় অন্ধকারে ঢাকা থাকে এই শহর। মৃত্যুকে অবৈধ হিসেবে মনে করেন তারা। কোনো মৃত্যু পথযাত্রীর খোঁজ সেখানে পাওয়া গেলে দ্রুত তাকে মূল ভূ-খণ্ড থেকে অন্যত্র নিয়ে যাওয়া হয়। এর কারণ হিসেবে বলা হয়েছে যে এই স্থানটি যেহেতু বরফে সম্পূর্ণভাবে ঢেকে থাকে তাই বেশিরভাগ সময়ই সেখানে মৃতদেহগুলো কবর দিলে তা মিশে যায় না। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭

Comments
Loading...