Prottashitoalo

যে গ্রামে ৪০০ বছর ধরে জন্ম নেয়নি কোনো শিশু!

0 6

ভারতের মধ্যপ্রদেশের একটি গ্রামের নাম শঙ্ক শ্যাম জি। এই গ্রামে বহু মানুষের বসবাস। কিন্তু প্রায় ৪০০ বছর ধরে এই গ্রামে কোনো শিশুর কলকাকলি শুনতে পাওয়া যায়নি। শুনে অবাক হচ্ছেন নিশ্চয়? ভাবছেন যেখানে এত মানুষ বাস করে, সেখানে প্রতিটি পরিবারে অন্তত একটি করে শিশু থাকার কথা?

ঠিকই ভাবছেন। আসলে এই গ্রামের মহিলারা সন্তান প্রসব করেন, কিন্তু সেসব বাচ্চার জন্ম গ্রামের ত্রিসীমানায় হয় না। কোনো সন্তান জন্ম নিলে তা জন্মায় গ্রামের সীমানার বাইরে। সেখানেই তাদের যাবতীয় যত্ন নেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। বর্তমানে সেখানে হাসপাতাল থাকলেও আগে যখন গ্রামের বাইরে সন্তান প্রসব করানো হতো সেই সময় হাসপাতালের প্রচলন ছিল না।

কিন্তু সন্তানসম্ভবা মহিলারা কেন এই রীতিই মেনে চলেন? গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা বলেন, ষোড়শ শতক থেকেই সেখানে তারা এই নিয়ম মেনে চলেছেন। গ্রামবাসীরা মনে করেন এই গ্রামে সৃষ্টিকর্তার অভিশাপ রয়েছে। তাই গ্রামের সীমানার মধ্যে কোনো শিশু জন্ম নিলে হয় সেই শিশুটির কোন শারীরিক ক্ষতি হবে আর নইলে শিশুটির মায়ের মৃত্যু হবে। শিশুটি বিকলাঙ্গ হয়েও জন্ম নিতে পারে।

আরো পড়ুন: ১৬০ কোটি বছরের পুরোনো পানির সন্ধান!

তারা বিশ্বাস করেন, গ্রামে ষোড়শ শতকে একটি মন্দির নির্মাণ করা হচ্ছিল। তখন সেই মন্দিরের কাছাকাছি এক মহিলা গম ভাঙতে শুরু করেন। সেই আওয়াজে ক্ষুব্ধ হন স্বয়ং ঈশ্বর। তারপর থেকেই সন্তান সংক্রান্ত সেই অভিশাপে অভিশপ্ত এই গ্রাম। অভিশাপ ছিল এটাই যে সেই গ্রামে আর কোনো মহিলা সন্তানের জন্ম দিতে পারবে না।

বাসিন্দারা বলেন, অনেকেই এই প্রথার বিরুদ্ধে গিয়ে ফল পেয়েছেন। সেক্ষেত্রে হয় মৃত সন্তান প্রসব করেছেন মহিলা, কিংবা প্রসব করতে গিয়ে মায়ের মৃত্যু হয়েছে। তবে অভিশাপের পাশাপাশি গ্রামে একটি আশীর্বাদও রয়েছে। গ্রামে কোনো ব্যক্তি কোনও ধরনের নেশায় আসক্ত নন। ফলে অন্য সব গ্রামে যে কারণে বেশিরভাগ পরিবারের মধ্যে ঝামেলা এবং মনোমালিন্য হয়, এখানে তেমন কিছুই হয় না। সূত্র: কলকাতা ২৪x৭

Comments
Loading...