Prottashitoalo

‘মিউটেশন ঘটিয়ে আরো ভয়ানক স্ট্রেন তৈরি করতে পারে করোনা’

0 10

করোনাভাইরাস নিজেকে বারবার পরিবর্তন করে নতুন রূপ নিচ্ছে। একে বলা হচ্ছে করোনার মিউটেশন বা নতুন স্ট্রেন। কখনো করোনার নতুন রূপ আগেরটার চাইতে বেশি ভয়ঙ্কর হচ্ছে, কখনো বা আগের চাইতে নিরীহ। ইতিমধ্যে এমন বেশ কিছু নতুন রূপ বিশ্বে আতঙ্ক বাড়িয়েছে। সবচেয়ে বেশি আতঙ্ক বাড়াচ্ছে করোনার ডেল্টা স্ট্রেন।

বিশেষজ্ঞেরা মাস দুয়েক আগে বলেছিলেন, করোনার ডেল্টা ভেরিয়েন্টেই বিপদের শেষ। এরপরে ক্ষমতা কমতে শুরু করবে ভাইরাসের। কিন্তু সে আশায় এবার পানি ঢেলে দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও)। তাদের দাবি, ডেল্টা আসলে বিশ্বের উদ্দেশে এক ‘সতর্কবার্তা’। এরপরে মিউটেশন ঘটিয়ে আরো ভয়ানক স্ট্রেন তৈরি করতে পারে করোনাভাইরাস!

ইতিমধ্যে ১৩২টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে ডেল্টা ভেরিয়েন্ট। আমেরিকায় নতুন করে সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে এর জেরে। পশ্চিম এশিয়ায় চতুর্থ ঢেউ আছড়ে পড়ার অন্যতম কারণ ডেল্টা। চীনে নতুন করে সংক্রমণ বেড়েছে। আরো দু’টি প্রদেশ থেকে সংক্রমণ বৃদ্ধির খবর মিলেছে। অস্ট্রেলিয়ার অন্যতম বড় শহর ব্রিসবেন ও কুইন্সল্যান্ড প্রদেশের একাংশে লকডাউন জারি করা হয়েছে।

বিজ্ঞানীরা বলছেন, চিকেন পক্সের মতো ছোঁয়াচে ডেল্টা স্ট্রেনটি। একজন সংক্রমিতের থেকে নিমেষে ৮-৯ জনের শরীরে তা ছড়িয়ে পড়তে পারে।

আরো পড়ুন: বিশ্বে ২৪ ঘণ্টায় করোনায় আক্রান্ত কমেছে, মৃত্যু ৮৭৭২

অতিসংক্রামক স্ট্রেনটি সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরুরি পরিস্থিতিবিষয়ক পরিচালক ড. মাইকেল রায়ান বলেন, ‘ডেল্টা হচ্ছে আসলে একটা সতর্কবার্তা। সকলকে সতর্ক করে দেয়া যে, ভাইরাস তার ভোল বদলাচ্ছে। এবং এটাও মনে করিয়ে দেয়া যে আরো ভয়ানক ভেরিয়েন্ট তৈরি হতে পারে’।

ডব্লিউএইচও প্রধান টেড্রস অ্যাডানম গেব্রিয়েসাস এতে যোগ করেছেন, “এখন পর্যন্ত চারটি ‘ভেরিয়েন্ট অব কনসার্ন’ তৈরি হয়েছে। ভাইরাসটি যত ছড়াবে, এ রকম উদ্বেগ করার মতো ভেরিয়েন্ট আরও তৈরি হবে”।

গোটা বিশ্বকে ৬টি অঞ্চলে ভাগ করে পর্যালোচনা চালায় ডব্লিউএইচও। এর মধ্যে পাঁচটিতেই গত এক মাসে সংক্রমণ বেড়েছে ৮০ শতাংশ। ড. মাইকেল রায়ানের বক্তব্য, ডেল্টার প্রকোপে বেশ নড়বড়ে অবস্থা হয়েছে কিছু দেশের। কিন্তু তাতেও তারা যথেষ্ট সতর্ক করতে পারেনি বাসিন্দাদের। সংক্রমণ রুখতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করতে এখনো ব্যর্থ বেশ কিছু দেশ। পারস্পরিক দূরত্ব-বিধি মানা হচ্ছে না। লোকজন মাস্ক পরছেন না। স্যানটাইজ়ার ব্যবহার, হাত পরিষ্কার রাখা, হাওয়া চলাচলের ব্যবস্থা কম এ রকম বদ্ধ ঘরে বেশি ক্ষণ না-থাকা, ভিড়-জটলা এড়িয়ে যাওয়া— এর কোনোটার উপরেই জোর দেয়া হচ্ছে না।

রায়ানের কথায়, ‘‘টিকাকরণে কাজ দিচ্ছে। টিকা নেয়া থাকলে বাড়াবাড়ি কম হচ্ছে। কিন্তু এটাও মাথায় রাখতে হবে, ভাইরাস একটা ফিল্টার পেয়ে গিয়েছে। সংক্রমণের গতি আরও বাড়িয়েছে ভাইরাস। আমাদের যে ‘গেম প্ল্যান’ রয়েছে, সেটা কাজ দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু সেটা দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে। বরং আগের থেকে আরো গতি বাড়াতে হবে টিকাকরণের”। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Comments
Loading...