বেশি ঘুমাচ্ছেন, তাহলে আপনাকে সর্তক হতে হবে এখনই
prottashitoalo
Prottashitoalo

বেশি ঘুমালে সর্তক হোন এখনই

0 ৩৪

ঘুম কম হলে যেমন শরীরের দেখা দেয় নানাবিধ সমস্যা, তেমনি বেশি ঘুমও ভালো নয়। যাঁদের দিনে নয় থেকে দশ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি ঘুমানোর অভ্যাস, তাঁদের শরীরে বাসা বাঁধতে পারে অনেকরকম রোগ। যেমন ওজন বেড়ে যাওয়া, মাথা ব্যথা, পিঠে ব্যথার মতো সমস্যা। এমনকী শরীরে বাসা বাঁধতে পারে ডায়াবেটিস বা হৃদরোগের মতো কঠিন অসুখও। বেশি ঘুমানোর ফলে ডিপ্রেশনের কবলে পড়েছেন, এমন অনেক উদাহরণও আছে।

কেন বেশি ঘুমাই?
সাধারণত প্রতিদিন রাতে ছয় থেকে আট ঘণ্টা ঘুমকে স্বাভাবিক ধরা হয়। নয়-দশ ঘণ্টা বা তার চেয়েও বেশি ঘুমালে তা নিশ্চিতভাবেই অতিরিক্ত ঘুম হিসেবে ধরা হয়। কম ঘুম বা অনিদ্রার পিছনে যেমন কয়েকটি নির্দিষ্ট কারণ থাকে, তেমনি অতিরিক্ত ঘুমও শারীরিক কিছু সমস্যার কারণে হতে পারে। যেমন- থাইরয়েড, হৃদযন্ত্রের সমস্যা, স্লিপ অ্যাপনিয়া, ডিপ্রেশনের কারণে বেশি ঘুম হতে পারে। কিছু কিছু ওষুধের প্রভাবেও অতিরিক্ত ঘুম হয়। দীর্ঘদিন ধরে একটানা ক্লান্তির শিকার হলেও অনেকে বেশি ঘুমিয়ে পড়েন। আবার কোনও শারীরিক কারণ ছাড়াই, শুধুমাত্র অনিয়মিত লাইফস্টাইলের কারণেও অনেকে বেশি ঘুমান। তাই আপনারও যদি এমন সমস্যা থেকে থাকে, তা হলে সবার আগে তার কারণটা খুঁজে বের করে তা সারানোর দিকে মন দিতে হবে। শারীরিক কারণ থাকলে তার যেমন চিকিৎসা করতে হবে, তেমনি শুধু অভ্যাসের কারণে বেশি ঘুম হলে সংশোধন করতে হবে তাও।

বেশি ঘুমানো বন্ধ করবেন কিভাবে?
বেশি ঘুমের পিছনে যদি শারীরিক কোনও অসুস্থতা না থেকে থাকে, তা হলে কিছু সাধারণ টিপস মেনে দেখতে পারেন। অভ্যাস আর ঘুমের প্যাটার্নে সামান্য অদলবদল ঘটিয়েই মুক্তি পাওয়া যায় বেশি ঘুমের হাত থেকে।

ঘুমের নির্দিষ্ট রুটিন মেনে চলুন
প্রতিদিন একই সময়ে ঘুমাতে যান এবং সকালে একই সময়ে ঘুম থেকে উঠুন। নিয়মিতভাবে এটা বেশ কিছুদিন করতে পারলে শরীর ধাতস্থ হয়ে যাবে, ঘুমের নির্দিষ্ট ছন্দ আসবে। এই ছন্দটা ভাঙতে দেবেন না, উইকএন্ডেও মেনে চলুন।

ঘুমের উপযোগী পরিবেশ তৈরি করুন
ঘুমানোর জায়গাটা আরামদায়ক হওয়া দরকার। ঘর অন্ধকার আর ঠান্ডা রাখুন। সমস্ত ইলেকট্রনিক ডিভাইস সুইচ অফ করে দিন। বালিশ আর বিছানার গদি যেন আপনার অস্বস্তির কারণ না হয়, তেমন হলে তা বদলে ফেলুন।

জীবনযাত্রায় পরিবর্তন আনুন
জাগ্রত অবস্থায় কিছু সচেতন অভ্যেস আপনার ঘুমের রুটিনকে ছন্দে ফেরাতে পারে। চা-কফি খাওয়ার পরিমাণ নিয়ন্ত্রণে রাখুন, ঘুমানোর আগে একেবারেই এ সব খাবেন না। ঘুমের আগে অ্যালকোহল-বেসড পানীয় খেলে ঘুম ঘুম ভাব হয় ঠিকই, কিন্তু তাতে ঘুম খুব একটা ভালো হয় না। তাই এড়িয়ে চলুন অ্যালকোহলও। বদলে হার্বাল চা বা হালকা গরম দুধ খেতে পারেন। ঘুমাতে যাওয়ার আগে কখনও ব্যায়াম করবেন না।

আরো পড়ুন:- রিয়েলমির নতুন ফোনের চার্জ থাকবে দেড় মাস

বাদ দিন দুপুরের ঘুম
দুপুরে খাওয়াদাওয়ার পর ভাতঘুম দেওয়ার অভ্যেস রয়েছে অনেকেরই। কিন্তু দুপুরের এই ঘুম আপনার ঘুমের ছন্দটাকে নষ্ট করে দিতে পারে। আপনি শারীরিকভাবে সুস্থ হলে দুপুরের ঘুমটা বর্জন করুন। বরং এমন কিছু কাজ করুন ওই সময়টায় যাতে ঘুম না আসে।

স্লিপ ডায়েরি মেনটেন করুন
প্রতিদিন কেমন ঘুমাচ্ছেন, কী কী অসুবিধে হচ্ছে, সে সব একটা ডায়েরিতে লিখে রাখুন রোজ। আপনার অভ্যেস, রুটিন, এ সবও লিখুন। দিনের বেলা ঘুমানোর অভ্যাস থাকলে সেটাও লিখে রাখুন। কখনও চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হলে এই ডায়েরি কাজে লাগবে।

web site
Comments
Loading...