Prottashitoalo

দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা কমলেও বাড়ছে ডেঙ্গু

0 1

করোনার ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণের মধ্যেই দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে শুরু করে আশঙ্কাজনক হারে। মূলত রাজধানীতে ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি দেখা দিয়েছে। বর্তমানে করোনায় শনাক্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা অনেকটা কমে এলেও ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব কোনোভাবেই নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গতকাল মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, করোনাভাইরাসে সারাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সংখ্যা গত ৯৯ দিনে সর্বনিম্ন। এর আগে গত ৭ জুন ৩০ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে দেশে সর্বমোট মৃতের সংখ্যা ২৭ হাজার ৭ জন। এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে করোনা আক্রান্ত হয়েছেন ২ হাজার ৭৪ জন। এ নিয়ে মোট আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৪৪০ জনে।

এদিকে, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে দুই সিটি করপোরেশনের কোনো অভিযানই কাজে আসছে না। গত তিন দিনে নতুন করে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছে প্রায় এক হাজার। যাদের বেশির ভাগই শিশু।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ডা. মো. কামরুল কিবরিয়ার সই করা বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৫০৯ জন। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ১৩ হাজার ১৯৬ জন। ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭ জন।

আরো পড়ুন: জাতিসংঘে ২৪ সেপ্টেম্বর ভাষণ দেবেন প্রধানমন্ত্রী

গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশে ভর্তি ২৩২ জনের মধ্যে ঢাকায় সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ৯৮ ও বেসরকারি হাসপাতাল এবং ক্লিনিকে ১৩৪ জন ভর্তি হন। এছাড়া ঢাকার বাইরে বিভিন্ন বিভাগে ১৮৯ জন ভর্তি হন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত মোট রোগীর মধ্যে জানুয়ারিতে ৩২ জন, ফেব্রুয়ারিতে ৯, মার্চে ১৩, এপ্রিলে তিন, মে মাসে ৪৩, জুনে ২৭২ এবং জুলাইয়ে দুই হাজার ২৮৬, আগস্টে সাত হাজার ৬৯৮ এবং ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার হাজার ১৫৩ জন রোগী ভর্তি হন। তাদের মধ্যে মারা গেছেন ৫৭ জন। এর মধ্যে ১২ জন জুলাইয়ে, ৩৪ জন আগস্টে এবং ১৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

জানা যায়, ডেঙ্গু আক্রান্তদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের সক্ষমতা না থাকায় রোগীর চাপ বাড়ছে শিশু হাসপাতালে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চলতি মাসেও ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আশার সম্ভাবনা নেই। হাসপাতালগুলোর গত কয়েক মাসের চিত্র এমনই। প্রতিদিন ঢাকা শিশু হাসপাতালেই ভর্তি হচ্ছে ১০-১৫ জন। বর্তমানে এই হাসপাতালে ডেঙ্গু চিকিৎসা নিচ্ছে ৬৭ শিশু।

ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের জন্য নির্ধারিত ছয়টি হাসপাতালের মধ্যে রোগীর চাপ সবচেয়ে বেশি মিটফোর্ড হাসপাতালে। এরপরই রয়েছে ঢাকা শিশু হাসপাতাল। চিকিৎসরা বলছেন, অন্য হাসপাতালগুলোর সক্ষমতা না থাকায় এখানে চাপ বাড়ছে।

Comments
Loading...