Prottashitoalo

‘আমাদের বোধদয় না হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক’

0 33

আমাদের দেশে করোনাভাইরাস ছড়াক বা না ছড়াক, এক শিক্ষা দিয়ে গেল। চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দিলো- স্বাস্থ্য খাত সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের দেশে কর্তাব্যক্তিরা যেভাবে বিদেশ যান, এরপরও তাদের বোধদয় না হলে তা হবে দুর্ভাগ্যজনক।

দেশের স্বাস্থ্যখাতকে ঢেলে না সাজিয়ে নিজেরা বছর বছর বিদেশ গিয়ে বিপদ ঠেকিয়ে রাখতে পারবেন না।

প্রায় একি সময় একই সাথে ছড়িয়ে দক্ষিণ কোরিয়া আর ইতালি দুই বিপরীত অভিজ্ঞতা লাভ করলো। ইতালিতে যেখানে মৃতের সংখ্যা ১০০০ এর উপর, কোরিয়ায় সেখানে কেবল ৬৭। সমস্যার প্রতি এপ্রোচ ভিন্ন, ফলাফলও ভিন্ন। চীন পুরো বিষয়টি প্রথমে চেপে যেতে চাইলেও পরে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। আপাতদৃষ্টিতে ভারতও এ লড়াইয়ে যথেষ্ট সফল। তারা আক্রান্ত সংখ্যা সীমাবদ্ধ রাখতে নিজেরা সেলফ কোয়ারেন্টাইন হয়ে আছে। কূটনৈতিক ভিসা, ভ্রমণ ভিসা, প্রজেক্ট ভিসা- সব এক কথায় নাকচ করে দিয়েছে। আমেরিকা পুরো ইউরোপকে ব্যান করে দিছে। নিজে বাঁচলে বাপের নাম!

করোনাভাইরাস দুর্ভাগ্যের এক পিরামিড। হাজার হাজার আক্রান্ত মানুষ চেন হয়ে এ পিরামিড বানিয়েছে। এ চেন যারা ভাঙ্গতে পেরেছে তারাই করোনা ভাইরাসের যুদ্ধে আপাত সফল। ইতালির এক মেয়র বলেছেন- সেখানকার হাসপাতালের ডাক্তাররা বাধ্য হচ্ছেন বয়স্কদের চিকিৎসা না দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দিতে। একজন নার্স কাজ করতে করতে ঘুমিয়ে গেছেন- এ ছবি ভাইরাল। রুটিন ক্যান্সার থেরাপি, মাইনর সার্জারি- করোনার চাপে সব পিছিয়ে যাচ্ছে।

করোনাভাইরাস- স্বাস্থ্য সার্বজনীন এ তত্ত্বকেও প্রতিষ্ঠিত করে দিয়েছে। রংপুরের এক কৃষক, বা উহান প্রদেশের এক মাংস ব্যবসায়ীর স্বাস্থ্য সমস্যা আপনাকেও বিপদে ফেলে দিতে পারে। এ উপলব্ধিটা জরুরি ছিল। জরুরি ছিল পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা সেন্স।

আমাদের কর্তা ব্যক্তিরা এখন দেশের মধ্যে ট্র‍্যাপড হয়ে আছেন। বাইরে যাবেন সেও নিরাপদ নয়। এখন নিজেরাই নিজেদের বিশ্বাস করতে পারছেন না। বাংলাদেশ কতটা সক্ষম এ যুদ্ধ মোকাবিলায় তারা ভাল জানেন। তারা জানেন আমাদের কতগুলো প্রোটেক্টিভ স্যুট আছে, কি পরিমাণ ম্যান পাওয়ার আছে, কত দ্রুত আমরা পাবলিকের কাছে স্বাস্থ্যবার্তা পৌঁছাতে পারবো।

নিশ্চয়ই চোখ রাখছেন খবরের দিকে। ইজরায়েল, চীন, জাপান, আমেরিকা, ভারত দৌড়ুচ্ছে ভ্যাক্সিন আবিষ্কারে। আমরা দৌড়ুচ্ছি ওয়াজ মাহফিল আর হুজুরের দোয়া দরুদে। আমাদের মেডিসিনের কি পরিমাণ মজুদ আছে- সে হিসাবও নিশ্চয়ই তাদের আছে।

চীন আর ভারত এ সংক্রান্ত ঔষধ রপ্তানি বন্ধ রেখেছে নিজেদের সংকট মোকাবেলায়। বড় দুর্যোগ সক্ষমতা প্রমাণের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা। আমাদের কর্তাব্যক্তিরা নিশ্চয়ই ভাববেন। বর্তমানের জন্য এবং ভবিষ্যতের জন্য।

আরও পড়ুন করোনাতঙ্কের মধ্যে ঢাকায় বাড়ছে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা

আমাদের এলার্ম বেজে গেছে বহু আগেই, এখন স্নুজার চলছে। এ জনপদ বাঁচিয়ে রাখতে জেগে উঠা ছাড়া উপায় নেই। সবার আগে স্বাস্থ্য।

সানজিদা রিনি
গনমাধ্যম কর্মী

Comments
Loading...