Prottashitoalo

ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ইতিহাস

0 10

রাম জোয়াদার, কোটচাঁদপুর (ঝিনাইদহ): ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের ইতিহাস কপোতাক্ষ তীরবর্তী মনোরম শহর কোটচাঁদপুর যে শহরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, পৌরসভা, পাবলিক লাইব্রেরী শতবর্ষের পুরাতন এই শহরের ইতিহাস বেশির ভাগ আমাদের অজানা যা আছে সেটাও সংরক্ষণের অভাবে বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে।

কোটচাঁদপুর শহরটি ২৩.২৪ উওর অক্ষাংশ এবং ৮৯.০১ পৃর্ব দ্রাঘিমায় অবস্থিত কপোতাক্ষ নদের তীরবর্তী মনোরম শহর। মুসলমান কর্তৃক বঙ্গদেশ বিজিত হলে ক্রমে তুর্ক আফগানস্থান ,আরব প্রভৃতি দেশ থেকে সম্ভর সুফী দরবেশ এখানে আসেন মনপুর হতে এই সময় চাঁদ খাঁ নামক একজন দরবেশ কোটচাঁদপুর আসেন তার সঙ্গী সাথীগন কপোতাক্ষ তীরে তারা অবস্থান করেন।

তার নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয় চাঁদপুর ইতিহাস থেকে জানা যায় পাঠান সম্রাটগনের রাজত্বকালে এখানে একটি সেনানিবাস স্থাপিত হয়। সে সময় থেকে এ স্থানের নাম হয় কোট অর্খাৎ প্রাচীর বেষ্টিত বা অট্রালিকা শ্রেণী। মোগল সম্রাটগনের শাসন আমলে এখানে একটি বেঞ্চকোট স্থাপিত হয়। পরবর্তী কালে এই কোট হতে কোট এবং চাঁদপুর মিলে কোটচাঁদপুর নাম হয়। বৌদ্ধযুগ, সুর্যরাজার আমল, তুর্কী পাঠান ও মোগল আমলে কোটচাঁদপুর ধীরেধীরে একটা শহরে রুপাম্পরিত হয়। বৃটিশ আমলে কোটচাঁদপুরের প্রখ্যাতি উন্নতি সাধন হয়।

ঔ আমলে ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরে কে মহাকুমায় উন্নীত করাহয়। তবে নীলকার সাহেবদের বীরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয় সেটা সম্ভাবত ১৮৩০ -১৮৪৭ সালের মধ্যে কারন দেখা যায় সৈয়দ নিসার আলি ওরফে তিতুমির ইউরোপীয় নীলকর এবং ইংরেজ সরকারের অত্যাচারে বিরুদ্ধে যে গনআন্দোলন পরিচালনা করেন সেটা ১৮৩০ সালে।

১৮৩১ সালেতিতুমীর শহীদ হন, ১৮৪৭ সালে দুধু মিয়া নীল করদের পরাজিত করেন । ১৮৬০ সালে দুধুমিয়া মারা যান ধারনা করা যায় ১৮৩০-১৮৪৭ সালের মধ্যেই মিউনিসিপ্যালিটি স্থপিত হয় ।কোটচাঁদপুর কে থানা ও উপজেলায় উন্নীত করা হয়। স্বাধীনতা পূর্বকালে যশোর জেলার মিউনিসিপ্যালিটি ছিল মাত্য ৩ টি যশোর মহেশপুর ও কোটচাঁদপুর ।

১৫৭৬ খ্রীষ্ঠব্দে চাঁদ খাঁ যখন তার সঙ্গী সাথী নিয়ে এখানে বসতি স্থাপন করেন তখন থেকেই লোক সমাগম হতে থাকে ব্যবসা বানিজ্য প্রসার দূর দেশ পর্যন্ত খ্যাতি ছড়িয়ে পড়ে। ১৬১০ সালে এই শহরের চারি দিক বিরাট কোট বা প্রচীর বেষ্ঠিত করেন ।মগদের অত্যাচার আর বারবার আক্রমনে কোটা টি রক্ষা করা সম্ভম হয়নি।

ফলে তা ধবংশ প্রাপ্ত হয়। তখন বিভিন্ন শিল্প বিস্তার লাভ করেছিল। তার মধ্যে চিনি শিল্প অন্যতম। ১৯৫২ সাল পর্যন্ত এখানে চিনি শিণ্প ব্যাপক প্রসার লাভ করে ছিল বিভিন্ন জায়গার। এখন সেসব সুদুর অতীত। শ্রমিক বড়বড় লঞ্চ , স্টীমার আর নেই কালের বিবর্তনে সবই পরি বর্তিত হয় শুধু রেখে যায় তার সোনালী অতীত।

Comments
Loading...