Prottashitoalo

চীনকে দমিয়ে রাখতেই ‘মনগড়া অভিযোগ’ করে আমেরিকা

0 5

গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় আসার পর আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে সম্পর্ক শোধরানোর বার্তা দিয়েছিলেন। তবে বেইজিং চড়া গলায় বুঝিয়ে দিল, তারা বাইডেনের দেখানো রাস্তায় আদৌ হাঁটতে রাজি নয়। গতকাল ২৬ জুলাই দু’দেশের উপ বিদেশমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকের পরে ওয়াশিংটনকে তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেছে চীন।

বৈঠকের পর পরই চীনা সরকারি সংবাদমাধ্যমে আমেরিকার বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দেন চীনের উপ বিদেশমন্ত্রী শি ফেং। তার স্পষ্ট বক্তব্য, চীনের উন্নয়ন আটকাতেই তাদের বিরুদ্ধে অযৌক্তিক ও মনগড়া অভিযোগ আনে আমেরিকা। ওয়াশিংটন দমনমূলক কূটনীতির স্রষ্টা বলেও আক্রমণ করেন তিনি। ফেংয়ের কথায়, ‘মনে হয় যেন চীনকে দমিয়ে রাখতে পারলেই নিজেদের অভ্যন্তরীণ সব সমস্যার সমাধান করে নিতে পারবে আমেরিকা। এটা আমরা কখনোই মানব না। অবিলম্বে আমাদের শত্রু ভাবা বন্ধ করুক আমেরিকা’।

উত্তর চীনের তিয়ানজিন শহরে সোমাবার বৈঠকে বসেছিলেন আমেরিকান উপ বিদেশসচিব ওয়েন্ডি শেরম্যান এবং চীনের উপ বিদেশমন্ত্রী শি ফেং। কয়েক মাস আগে আলাস্কায় দু’দেশের শীর্ষ স্থানীয় কূটনীতিকরা আলোচনার টেবিলে বসেছিলেন। তারপরে গতকাল ফের উচ্চ পর্যায়ের এই বৈঠক হয়। কড়া কোভিড বিধির জন্য বৈঠক চত্বরে বিদেশের কোনো সাংবাদিক ঢোকার অনুমতি পাননি। তবে চীনের সাংবাদিকেরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো পড়ুন: আন্দোলনের মুখে তিউনিসিয়ার প্রধানমন্ত্রীকে অপসারণ

আমেরিকান উপ বিদেশসচিব শেরম্যান অবশ্য চীনের বিরুদ্ধে মুখ খোলেননি। প্রথমে তার চীন সফরে আসার কথাও ছিল না। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, মঙ্গোলিয়ার মতো এশিয়ার কয়েকটি দেশে সফর সেরেই আমেরিকা ফিরে যাওয়ার কথা ছিল তার। কিন্তু আচমকাই তার চীনে যাওয়ার কথা ঘোষণা করে হোয়াইট হাউস। বলা হয়েছিল, চীনের সঙ্গে খোলামেলা ভাবে কথা বলতেই উপ বিদেশসচিব এই সফরে যাচ্ছেন। আজকের বৈঠকে কোনো সমাধানসূত্র বার হয়নি বলেই খবর। চিনা প্রেসিডেন্ট শি চীনফিংয়ের সঙ্গে আমেরিকান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন কবে বৈঠকে বসবেন, তা নিয়েও কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।

তবে ফেংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পরে চিনা বিদেশমন্ত্রী ওয়াং ই-র সঙ্গে আলোচনায় বসেন শেরম্যান। হংকং, তিব্বতের মতো এলাকায় মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়গুলি নিয়ে সরব হতে শোনা গিয়েছে তাকে। সাইবার হামলা নিয়েও চিনা বিদেশমন্ত্রীর কাছে নিজেদের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন আমেরিকান উপ বিদেশসচিব। বৈঠকের পরে আমেরিকান এক শীর্ষ স্থানীয় কূটনীতিক বিবৃতি দিয়ে বলেছেন, ‘চীন আর আমেরিকা যে সব ক্ষেত্রে বিরুদ্ধ মত পোষণ করে, একমাত্র আলোচনার মাধ্যমেই তার সমাধান সম্ভব’। সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা

Comments
Loading...