Prottashitoalo

কিডনি ভালো রাখতে…

0 8

মানুষের শরীরে দুটি কিডনি থাকে, যেগুলো শরীরের পানির ভারসাম্য রক্ষা করে এবং বিভিন্ন দূষিত পদার্থ ছেঁকে ফেলে। এই কিডনি যদি আপনার শরীরের কাজ না করে তবে আমরা বলে থাকি কিডনি নষ্ট হতে চলেছে। আর কিডনি কাজ না করলে শরীরে নানাবিধ সমস্যা দেখা দেবে।

তাই কিডনি ভালো রাখাতে হলে খাওয়ার ক্ষেত্রে অবশ্যই কিছু নিয়ম মেনে চলতে হবে। কারণ সঠিক খাদ্যাভ্যাস কিডনি সমস্যার ঝুঁকি অনেকটাই কমতে পারে। তাহলে দেখে নেয়া যাক, কিডনি ভালো রাখতে কী কী খাদ্য আপনার ডায়েটে রাখবেন।

আপেল: আপেল অত্যন্ত স্বাস্থ্যকর একটি ফল। আপেল কিডনি রক্ষা করতেও সহায়ক। আপেলে পেকটিন থাকে, যা কিডনির ক্ষতি হওয়ার ঝুঁকি হ্রাস করতে সহায়তা করে এবং কিডনিকে সুরক্ষিত রাখে।

বেরি: বেরি হল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং পুষ্টি সমৃদ্ধ। কিডনি ভালো রাখতে, খাদ্যতালিকায় প্রচুর পরিমাণে বেরি যুক্ত করা যেতে পারে। যেমন – স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, ক্র্যানবেরি প্রভৃতি। কিডনি স্বাস্থ্যকর রাখতে, দৈনন্দিনের খাদ্যতালিকায় আধ কাপ বেরি অন্তর্ভুক্ত করার পরামর্শ দেয়া হয়।

ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল: কিডনির সুস্থ রাখার ক্ষেত্রে ভিটামিন-সি সমৃদ্ধ ফল অত্যন্ত উপকারি। কমলালেবু, পাতিলেবুতে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন-সি উপস্থিত। গবেষণায় দেখা গেছে যে, প্রতিদিন লেবুর রস খাওয়া হলে, কিডনিতে পাথর গঠনের হার হ্রাস পায়।

পালং শাক: সবুজ শাকসবজিতে ভিটামিন এ, সি, কে, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং ফোলেট-এর মাত্রা বেশি থাকে। পালং শাকে থাকা বিটা ক্যারোটিন, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। এছাড়া, ডায়েটে পালং শাক রাখলে তা কিডনি সুস্থ রাখতেও সহায়তা করে।

আরো পড়ুন: ডিউক ডায়েট কি? কি কি খাওয়া যায় তাতে?

আনারস: আনারস শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়িয়ে তুলতে সহায়তা করে। এতে উচ্চ মাত্রায় ফাইবার থাকে, যা কিডনির রোগ প্রতিরোধে সহায়ক। এছাড়া এটি ম্যাঙ্গানিজ, ভিটামিন-সি এবং ব্রোমেলিন সমৃদ্ধ হওয়ায়, প্রদাহ জনিত সমস্যা হ্রাস করতেও সহায়তা করে।

ক্যাপসিকাম: ক্যাপসিকাম অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সমৃদ্ধ। তাছাড়া, ক্যাপসিকামে ভিটামিন-সি থাকে। তাই, কিডনি ভালো রাখতে, ক্যাপসিকাম অবশ্যই খাদ্যতালিকায় অন্তর্ভুক্ত করুন।

ফুলকপি: ফুলকপিতে ভিটামিন সি, ফোলেট এবং ফাইবার উচ্চ মাত্রায় থাকে। এটি শরীর থেকে টক্সিন পরিষ্কার করতে সহায়তা করে। ফুলকপিতে নিম্ন মাত্রায় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাস থাকে, যার ফলে কিডনির উপর চাপ কম পড়ে এবং কিডনি সুস্থ থাকে।

রসুন: রসুনে নিম্নমাত্রায় সোডিয়াম, পটাসিয়াম এবং ফসফরাস বর্তমান, যা রেনাল রোগে আক্রান্ত রোগীদের ক্ষেত্রে ভাল। খাদ্যতালিকায় রসুনের উপস্থিতি কিডনিকে স্বাস্থ্যকর রাখতে সাহায্য করে।

বাঁধাকপি: বাঁধাকপিতে সোডিয়ামের মাত্রা অত্যন্ত কম থাকে, যা কিডনির সমস্যা প্রতিরোধে সহায়ক। তাছাড়া, বাঁধাকপি বিভিন্ন ভিটামিন এবং যৌগ সমৃদ্ধ হওয়ায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা শক্তিশালী করে তুলতেও সহায়তা করে।

ডিমের সাদা অংশ: ডিমের সাদা অংশ কিডনি ভালো রাখতে অত্যন্ত কার্যকরি। এটি উচ্চমানের কিডনি-বান্ধব প্রোটিনের উৎস সরবরাহ করে। ডায়ালিসিস চিকিৎসারত রোগীরাও, ডিমের সাদা অংশ খাদ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন। সূত্র: বোল্ডস্কাই

Comments
Loading...