Prottashitoalo

করোনা শনাক্তের ৮১% দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট: আইসিডিডিআরবি

0

দেশে করোনা ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউ চলছে। প্রতিদিনই করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর কোনো না কোনো নতুন রেকর্ড হচ্ছে। মার্চের মাঝামাঝি সময় থেকেই বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ খুব দ্রুত বাড়ছে। গতকাল বুধবার একদিনেই ৭ হাজার ৬২৬ জনের মধ্যে সংক্রমণ ধরা পড়েছে, যা দৈনিক শনাক্ত রোগীর সর্বোচ্চ সংখ্যা। আগের দিন মঙ্গলবার এক দিনে রেকর্ড ৬৬ জনের মৃত্যু হয়েছে এ ভাইরাসে।

দেশে এ পর্যন্ত শনাক্ত কোভিড-১৯ রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ লাখ ৫৯ হাজার ২৭৮ জনে। তাদের মধ্যে ৯ হাজার ৪৪৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।

আন্তর্জাতিক উদরাময় গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইসিডিডিআরবি) বলছে, বাংলাদেশে শনাক্ত করোনা ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট। গতবছরের শেষের দিকে করোনাভাইরাসের যে নতুন ধরনটি দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথমবার শনাক্ত হয়েছিল, সেই ধরনটিই মার্চের তৃতীয় সপ্তাহ থেকে বাংলাদেশে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়।

আইসিডিডিআরবি তাদের ওয়েবসাইটে বুধবার (৭ এপ্রিল) গবেষণার এক খবরে জানিয়েছে। তারা ডিসেম্বর মাস থেকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এবং আইইডিসিআরের সঙ্গে মিলে করোনাভাইরাসের বিভিন্ন ভ্যারিয়ান্টের ওপর নজরদারি শুরু করে। ১ জানুয়ারি থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত এ সময়ের মধ্যে ১৬ হাজার ২৬৫টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ২ হাজার ৭৫১টি নমুনা পজিটিভ শনাক্ত হয়।

আরো পড়ুন: যুক্তরাজ্যে অ্যাস্ট্রেজেনেকার টিকা নিয়ে ১৯ জনের মৃত্যু

তাতে ৬ জানুয়ারি প্রথম ব্রিটেনের ধরনটি শনাক্ত হয় এবং মার্চের দ্বিতীয় সপ্তাহ পর্যন্ত এই ধরনটিই বাংলাদেশে বৃদ্ধি পায়। কিন্তু মার্চের তৃতীয় সপ্তাহে দেখা যায় যে, অন্য যেসব ধরন পাওয়া গিয়েছে বাংলাদেশে, তার মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনটি সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।

আইসিডিডিআরবি বলছে, দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্টের আবির্ভাব বাংলাদেশে ভাইরাসের প্রসারের ক্ষেত্রে নাটকীয় পরিবর্তন আনে। মার্চের চতুর্থ সপ্তাহেই দেখা যায়, দেশে শনাক্ত ধরনগুলোর মধ্যে এখন ৮১ শতাংশই দক্ষিণ আফ্রিকার ভ্যারিয়ান্ট।

করোনাভাইরাসের নানা ধরনের মধ্যে ইউকে ভ্যারিয়েন্ট, দক্ষিণ আফ্রিকা ভ্যারিয়েন্ট এবং ব্রাজিলিয়ান ভ্যারিয়েন্টই সারাবিশ্বে ছড়িয়েছে সবচেয়ে বেশি।

আইসিডিডিআরবি বলছে, এই তিনটি ধরনের সংক্রমণের হার বেশি এবং এদের জিনগত পরিবর্তনও ঘটে বেশি। ফলে এখন ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা এবং রোগী ব্যবস্থাপনার দিকটি নতুন করে ভাবতে হবে বলে তারা বলছে।

সংস্থাটি বলছে, ‘মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখা চালিয়ে যেতে হবে। যে কোনো ধরনের জনসমাগম এড়িয়ে চলতে হবে। টিকা নিয়ে থাকলে বা এর আগে আক্রান্ত হয়ে থাকলেও প্রচলিত প্রতিরোধ ব্যবস্থা মানতে হবে। সর্বোপরি সরকার নির্ধারিত বিধিনিষেধ মেনে চলতে হবে।’

web site
Comments
Loading...