করোনাকালে বিদেশে পড়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে - প্রত্যাশিত
prottashitoalo
Prottashitoalo

করোনাকালে বিদেশে পড়ার সুযোগ পাওয়া শিক্ষার্থীরা পড়েছে বিপাকে

0 ৬৭

একজন শিক্ষার্থী যুক্তরাষ্ট্রের ইউনিভার্সিটি অব আলাবামায় এমবিএ পড়ার সুযোগ পায়। কথা ছিল জুনেই যাবেন সেখানে। কিন্তু সেটা পিছিয়ে সেপ্টেম্বরের শুরুতে চলে যায়। এর মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ে টিউশন ফি জমা দিতে বলা হয়েছে। ভর্তি ফি সহ আনুষঙ্গিক কাজে লাখ টাকার বেশি খরচ হয়ে গেছে। কিন্তু সে বুঝতে পারছে না, আদও সে যেতে পারবে কি না বা কীভাবে কী করবেন। করোনাকালে মহামারিতে এই শিক্ষার্থীর মতো বিদেশে পড়তে যাওয়ার সুযোগ পেয়েও অনেকে শিক্ষার্থীই অনিশ্চয়তায় ভুগছেন। বিভিন্ন দেশের নানা নিষেধাজ্ঞায় বিপাকে পড়েছেন তাঁরা।

গত বছরের শেষ দিকে করোনাভাইরাস ছড়াতে শুরু করলেও এ বছরে এসে তা মহামারি আকার ধারণ করেছে। যেসব দেশে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা যান, সেসব দেশেও করোনা ছড়িয়েছে। যেখানে প্রকোপ সেখানে ক্লাস চলে অনলাইনে। বাংলাদেশেও প্রতিদিন করোনায় সংক্রমিত মানুষের সংখ্যা বাড়ছে। যেসব শিক্ষার্থীর গ্রীষ্মের সেশনে যাওয়ার কথা ছিল, তাঁরা এখন পুরো আটকা পড়েছেন।

ইউনেসকোর সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ থেকে বছরে প্রায় ৬০ হাজার শিক্ষার্থী দেশের বাইরের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে যান। সবচেয়ে বেশি যান মালয়েশিয়ায়। এরপর রয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, জার্মানি, কানাডা, ভারত ও জাপান। এ ছাড়া অন্য দেশেও বাংলাদেশি শিক্ষার্থী রয়েছেন। শিক্ষামূলক পরামর্শক সংগঠন ফরেন অ্যাডমিশন অ্যান্ড ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্টের কনসালটেন্টস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ফ্যাকড-ক্যাব) জানিয়েছে, বছরে ৮০ হাজার থেকে ১ লাখের মতো শিক্ষার্থী তাদের বিভিন্ন এজেন্সিতে পরামর্শের জন্য যান।

ভিসা নিয়ে আশাবাদী ব্র্যাক এডুকেশন প্রোগ্রামের ডেপুটি ম্যানেজার আসিফ বায়েজিদ। তিনি ইউরোপিয়ান কমিশন প্রদত্ত ইরাসমাস মুন্ডুস বৃত্তির দুটো প্রোগ্রামে সুযোগ পেয়েছেন। প্রথমটা অস্ট্রিয়ায়, যেটা আগস্টে শুরু হবে। আসিফ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘অস্ট্রিয়া এ বছর কোনো বিদেশি শিক্ষার্থী অনুমতি দিচ্ছে না। এটা এক বছরের জন্য স্থগিত। আরেকটা স্পেনে, যেটা সেপ্টেম্বরে শুরু হবে। ওই সময়ে আমাকে বিশ্ববিদ্যালয়ে উপস্থিত থাকতে হবে।’ আসিফ সময়মতো যেতে পারবেন বলে আশাবাদী। তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের জন্য ভিসার ক্ষেত্রে হয়তো অন্য দেশগুলো সমস্যা করবে না।

যুক্তরাষ্ট্রের ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট জানান, আসন্ন সেশনে যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যদি অনলাইনে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যায়, তবে ওই দেশে থাকা বিদেশি শিক্ষার্থীদের যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তেই হবে। এ ছাড়া যাঁরা নতুন শিক্ষা সেশনে ভর্তি হতে যাবেন এবং সে কার্যক্রম যদি অনলাইনে চলে, তাহলে বিদেশি শিক্ষার্থীদের ভিসাও দেওয়া হবে না।

কানাডার মেমোরিয়াল ইউনিভার্সিটি অব নিউফাউন্ডল্যান্ডে স্নাতক স্তরে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া আরেক শিক্ষার্থী বলেন, ‘কবে যেতে পারব ঠিক নেই। গ্যাপ দিতে চাই না। আর ক্রেডিট ট্রান্সফারের যেহেতু সুযোগ আছে, তাই দেশেই পড়াশোনাটা চালিয়ে যাব। সব ঠিক হলে তখন যাব।’

যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে পিএইচডি করতে যাওয়া শিক্ষার্থী বলেন, ‘আগস্টে ক্লাস শুরু হওয়ার কথা। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আগে অনলাইনে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছিল। কিন্তু ওই দেশের সরকারের নতুন সিদ্ধান্তের পর কী করবে জানি না।’

বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালসের প্রভাষক ফওজিয়া আহমেদ জানান, তাঁর দুটি স্কলারশিপ হয়েছে। একটি কমনওয়েলথ বৃত্তির অধীনে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডনে। যেটা শুরু হবে সেপ্টেম্বরে। বিশ্ববিদ্যালয় জুলাইয়ের শেষে জানাবে কীভাবে শুরু করবে। আরেকটি কানাডার ম্যানিটোবায় একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে। সেটাও সেপ্টেম্বরে, যেখানে তিনি মাস্টার্স ও পিএইচডির জন্য সুযোগ পেয়েছেন। ফওজিয়া গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাংলাদেশের কানাডার ভিসা অফিস বন্ধ। এখানে ডিসেম্বরের মধ্যে আমাকে যেতেই হবে। আর সেপ্টেম্বরে অনলাইনে ক্লাস করতে হবে। এখন বিভিন্ন দেশে ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞার কথা শুনছি। আমাদের দেশের পরিস্থিতিও খারাপ হচ্ছে। কানাডা সব চালু করে দিলেও বাংলাদেশের জন্য কী পদক্ষেপ নেবে, বুঝতে পারছি না।’

বিশ্বজুড়ে করোনা পরিস্থিতির এখনো তেমন উন্নতি হয়নি। অনেক দেশে ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য দেশগুলোর সীমান্ত খুলে দেওয়ায় ৫৪টি দেশের নাগরিকেরা শেনজেন ভিসার সুবিধা ভোগ করবেন। তবে ওই তালিকায় নেই বাংলাদেশ। শেনজেন ভিসার মাধ্যমে ইইউভুক্ত দেশগুলোতে অবাধে যাতায়াত করা যায়। তবে করোনার আগে যাঁদের ভিসা করা আছে, তাঁরাই যেতে পারছেন যুক্তরাজ্যে। কিন্তু করোনার কারণে দূতাবাসগুলো বন্ধ। ভিসা হওয়া না-হওয়া নিয়েও তাঁদের আশঙ্কা। এ ছাড়া কত দিনে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে, টিউশন ফি বেড়ে যাবে কি না, সব নিয়ে ভাবতে হচ্ছে তাঁদের।

রবি টেন মিনিটস স্কুলের ইংরেজি শিক্ষক মুনজেরিন শহীদ অক্সফোর্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাপ্লায়েড লিঙ্গুয়েস্টিক অ্যান্ড সেকেন্ড ল্যাঙ্গুয়েজ একুইজিশন বিষয়ে মাস্টার্স পড়তে যাচ্ছেন। শেভেনিং বৃত্তিও পেয়েছেন। অক্টোবরে ক্লাস শুরু হবে। তিনি বলেন, ‘ভিসা কীভাবে হবে, জানি না। তবে বিশ্ববিদ্যালয় জানিয়েছে, ওই সময় পর্যন্ত হয়তো অনলাইনে ক্লাস হবে। ওরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।’

এজেন্সি কর্তারা জানান, ‘প্রতি বছরে ৮০ হাজার থেকে এক লাখ শিক্ষার্থী বিদেশে যাওয়ার জন্য আমাদের কাছ আসে। এ বছর এই ৬ মাসে এসেছে ২ হাজারের মতো।’ পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নিচ্ছে আগে থেকে কিছুই বলা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: বাংলাদেশি যাত্রীদের নামতে দিল না ইতালি

web site
Comments
Loading...