করোনার পরিস্থিতিতে বাড়তি উদ্বেগ কমাতে যা করবেন
prottashitoalo
Prottashitoalo

করোনাকালে কমিয়ে ফেলুন বাড়তি উদ্বেগ

0 ৩৩

করোনা হবে কি না, হলে কী হবে, চাকরি থাকবে কি না, ব্যবসা চলবে কি না, প্রিয়জন সুরক্ষিত কি না, ইত্যাদি বিষয় নিয়ে চিন্তা করে দিন-রাত একাকার করে দিচ্ছেন। কিন্তু চিন্তা করে সমাধান মিলবে কী? অতিরিক্ত উদ্বেগ নিয়ে বসে থাকলে কয়েক মাস পর  জিএডি বা জেনারেলাইজড অ্যাংজাইটি ডিজঅর্ডার হতে পারে।

Generalized Anxiety Disorder Causes, Symptoms and Treatmentমনোচিকিৎসকরা বলেন, “উদ্বেগের বিপদ এটাই, মানুষ দিনে দিনে এত নেগেটিভ হয়ে যান, বিশ্বাস করতে শুরু করেন, তাঁর যা হবে, সব খারাপই হবে। ‘ভাল’-র মধ্যেও ‘খারাপ’ খুঁজে বার করেন। নিয়মের বাইরে কিছু এলে সামলাতে পারেন না। রিল্যাক্স করতে পারেন না। ভুল সিদ্ধান্ত নেন। খিটখিট করেন, খুঁতখুঁত করেন। গ্রাস করে চরম অস্থিরতা, অমনোযোগ, দুঃখ, আতঙ্ক, অনিদ্রা।একসময় আর মাথা কাজ করে না। শারীরিক সমস্যাও দেখা দেয়। যেমন, গা-বমি, মাথাব্যথা, হাত-পা কাঁপা, বুক ধড়ফড়, বুকে চাপ। জীবন বিপর্যস্ত হয়ে যায়। তাঁর সঙ্গে পরিবারের অন্যদেরও। কাজেই নিজের বা অন্য কারও মধ্যে বাড়াবাড়ি উদ্বেগ দেখলে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নিন।”

উদ্বেগ কমাতে আপনাকে যা করতে হবে
ডিজঅর্ডারের পর্যায়ে পৌঁছে গেলে অনেক কিছু লাগে। সাইকোথেরাপি, বিশেষ করে কগনিটিভ বিহেভিয়ার থেরাপি, ওষুধ। জীবনযাপনে পরিবর্তন আনতে হয়। শিখতে হয় রিল্যাক্স করা ও পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার নিয়ম। গোড়াতে সতর্ক হলে এত কিছু লাগে না। সচেতন বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে কথা বলে ও যোগা-মেডিটেশন-ব্যায়াম ইত্যাদি করতে পারলে মন হালকা হয়।

5 Common Paleo Diet Mistakes You Don't Know You're Making • Laura Schoenfeldউদ্বেগ কমাতে কিছু খাবারেরও ভূমিকাও আছে
পুষ্টিবিদদের মতে, “ভিটামিন ই-র অভাব হলে উদ্বেগ ও মন খারাপ বাড়তে পারে। সে অভাব মেটাতে নিয়মিত বাদাম খান। বিশেষ করে ব্রাজিল নাট ও অ্যামন্ড। ব্রাজিল নাটে আছে সেলেনিয়াম নামের খনিজ। লাগাতার উদ্বেগে শরীরে যে প্রদাহ বাড়ে তা কমাতে পারে। তবে দিনে ৩-৪টের বেশি নয়।”

গবেষণা বলছে, যাঁরা ওমেগা থ্রি ফ্যাটি অ্যাসিড কম খান, তাঁদের মুড ডিজঅর্ডার বেশি হয়। কাজেই সপ্তাহে অন্তত দু-বার তৈলাক্ত মাছ খান। খান সয়াবিন, আখরোট, তিসির বীজ। কড লিভার অয়েলও খেতে পারেন।

জার্নাল অফ আফেকটিভ ডিজঅর্ডারে প্রকাশিত প্রবন্ধে বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন ভিটামিন ডি-এর অভাব হলে অবসাদের আশঙ্কা বাড়ে। কাজেই দিনে ২০-৩০ মিনিট গায়ে রোদ লাগানো জরুরি। তার পাশাপাশি খান তৈলাক্ত মাছ, ডিমের কুসুম, মাশরুম, কড লিভার অয়েল। প্রয়োজনে সাপ্লিমেন্ট খেতে হতে পারে।

ট্রিপ্টোফানের উপস্থিতিতে শরীরে সেরেটোনিন নামে মন ভাল করার হরমোন বেশি বেরোয়। মস্তিষ্কের কার্যকারিতা বাড়িয়ে উদ্বেগ, অনিদ্রা কমাতে সে সিদ্ধহস্ত। তাই ডিম, চিকেন, চিজ, মাছ, চিনাবাদাম, কুমড়া বীজ, তিল, দুধ, কলা ইত্যাদি খান মাত্রা রেখে। কুমড়ার বীজে পটাসিয়াম ও জিঙ্ক আছে। দুটো-ই মুড ডিজঅর্ডারের মহৌষধ। কলার পটাসিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রিল্যাক্স করতে সহায়তা করে।

How dark chocolate could boost brain health, immunityদিনে ৪০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট খেলে ফ্ল্যাভেনয়েড, ট্রিপ্টোফান, ম্যাগনেসিয়াম ইত্যাদির প্রভাবে মন ভাল থাকে। তবে তাতে কোকার পরিমাণ যেন ৭০ শতাংশের বেশি থাকে।

হলুদের কারকিউমিন প্রদাহের প্রবণতা কমায়। তাতে মনও শান্ত হয়। উপরি পাওনা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়া, যা এই মুহূর্তে খুবই দরকার।

আরো পড়ুন:- নর্দমা থেকে উদ্ধার হলো বিরাট আকারের ইঁদুর!

ঘরোয়া টক দই বা দোকানের ইয়োগার্টে আছে উপকারি জীবাণু, ল্যাক্টোব্যাসিলাস ও বাইফিডোব্যাকটেরিয়া। এটা পেট যেমন ভাল রাখে, মস্তিষ্কও সুস্থ রাখে।

web site
Comments
Loading...