Prottashitoalo

ইইউ’র সব অভিযোগ ভিত্তিহীন: অ্যাস্ট্রাজেনেকা

0 6

ব্রিটিশ-সুইডিশ ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে আরো একটি মামলা করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। গতকাল মঙ্গলবার করা ওই মামলায় ইইউ অভিযোগ করেছে, অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকা সরবরাহের চুক্তির শর্ত লঙ্ঘন করেছে।

তবে ইইউ’র আনা অভিযোগ ভিত্তিহীন বলে জানিয়েছে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা। কারণ, তারা চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করেনি। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলেছে, আগামী জুন মাস শেষ হওয়ার আগেই এই মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে।

মামলার বিবরণীতে ইইউ কমিশনের মুখপাত্র জানান, চুক্তির শর্ত অনুযায়ী অ্যাস্ট্রেজেনেকা চলতি বছরের প্রথম ভাগে ১২০ মিলিয়ন ডোজ, আর আসছে জুনের মধ্যে ৩০০ মিলিয়ন ডোজ সরবরাহ করবে। কিন্তু প্রথম ভাগে মাত্র ৩০ মিলিয়ন ডোজ ইইউকে দিলেও জুনের মধ্যে বাকি ভ্যাকসিনের সরবরাহ করা যে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষে পুরোপুরিই অসম্ভব হবে সেটি নিশ্চিত হয়েই মামলার সিদ্ধান্ত নেয় ইইউ কমিশন।

তবে এ মামলা ধোপে টিকবে না বলে জানিয়েছে অ্যাস্ট্রেজেনেকা। প্রতিষ্ঠানটির আইনজীবীর মতে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় সমস্যা এবং রপ্তানি নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা যথাসময়ে টিকা সরবরাহ করতে পারছে না। আর টিকা যথাসময়ে সরবরাহে বাধ্যবাধকতার বিষয়টি উল্লেখ নেই চুক্তিতে বরং সর্বোচ্চ চেষ্টার বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এদিকে কমিশনের আইনজীবী জানান, মামলায় অ্যাস্ট্রাজেনেকা হেরে গেলে ব্রিটিশ-সুইডিশ এ প্রতিষ্ঠানটিকে গুণতে হবে মোটা অঙ্কের জরিমানা। এ অবস্থায় প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ইইউ কমিশনের এমন সিদ্ধান্ত যুক্তিযুক্ত বলছেন জার্মানির সাধারণ নাগরিকেরা।

আরো পড়ুন: ৪৪ দেশে মিলেছে করোনার ভারতীয় ভ্যারিয়েন্ট: ডব্লিউএইচও

জার্মানির এক নাগরিক বলেন, দেখুন অ্যাস্ট্রাজেনেকা শুরু থেকেই চুক্তির কোনো তোয়াক্কা করেনি। যে পরিমাণ ভ্যাকসিন দেওয়ার কথা ছিল দেয়নি। তারওপর ভ্যাকসিনটির গবেষণা অপরিপক্ক। মস্তিষ্কেও শরীরের বিভিন্ন অংশে রক্তজমাট বাঁধার বিষয়টিও পরিষ্কার। তাই ইইউর মামলার সিদ্ধান্তটা সঠিক।

অন্যদিকে অক্সফোর্ড অ্যস্ট্রাজেনেকার টিকার মতোই সদ্য ইউরোপীয় মেডিসিন এজেন্সির অনুমোদন পাওয়া মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জনসন অ্যান্ড জনসনের টিকার ক্ষেত্রেও কোনো রকম নিয়ন্ত্রণ না রাখার ঘোষণা দিয়েছে মার্কেল প্রশাসন। আর তাতে করে টিকা পাওয়া আরও সহজতর হবে বলছেন টিকা গ্রহীতারা।

আরেক যুবক বলেন, সরকারের এ পদক্ষেপটাকে স্বাগত জানাই এবং মনে করি বিষয়টা পজিটিভ। টিকা নিতে এখন আর কোনো নাগরিককেই অগ্রাধিকারের অপেক্ষায় থাকতে হবে না। প্রবীণদের সাথে সাথে নবীনরাও টিকা পাবেন। নবীরদের জন্য টিকা নেওয়ার এটা দারুণ সুযোগ।

তবে এই মামলার রায় কোনো কারণে অ্যাস্ট্রাজেনেকার বিরুদ্ধে গেলে টিকার সরবরাহে বিলম্বের কারণে টিকার ডোজ প্রতি বাংলাদেশি টাকায় ১০০ টাকা ইইউকে পরিশোধ করতে হবে অ্যাস্ট্রাজেনেকাকে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী জুনের শেষের দিকেই ঘোষণা হতে পারে আলোচিত এই মামলার রায়।

Comments
Loading...