Prottashitoalo

আফগানিস্তানকে ১০০ কোটি ডলার সহায়তার প্রতিশ্রুতি দাতাদের

0 6

গত ১৫ আগস্ট আফগানিস্তানের ক্ষমতা দখল করে নিয়েছে উগ্র ইসলামপন্থি তালেবান বাহিনী। ৩১ আগস্ট মার্কিন ও ন্যাটো বাহিনীও আফগানিস্তান ছেড়ে চলে গেছে। তবে ২০ বছরের তালেবান-যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধের অবসান ঘটলেও চরম বিপর্যয়ে পড়েছে দেশটি। আফগানিস্তানে তালেবান সরকার গঠনের পরও অনিশ্চিত ভবিষ্যতে রয়েছে অসংখ্য মানুষ। দারিদ্র্যতা গ্রাস করেছে পুরো আফগানিস্তান।

জাতিসংঘ জানিয়েছিলো, যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশটিতে খাদ্য সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। এর মাঝেই আফগানিস্তানের ১ কোটি ৪০ লাখ মানুষ পড়েছে খাদ্য সংকটে। এছাড়া লোকজন দেশ ছাড়ার ভয়ে অতিরিক্ত টাকা তুলে নিয়েছে ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে। ফলে তারল্য সংকটে পড়েছে ব্যাংক-বীমাসহ বহু আর্থিক প্রতিষ্ঠান। কমেছে শেয়ারবাজারের লেনদেনও।

দেশটির দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সহায়তার জন্য সুইজারল্যান্ডের জেনেভায় জাতিসংঘের উদ্যোগে গতকাল সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) একটি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। জাতিসংঘের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে আফগানিস্তানকে সাহায্য করার জন্য ১০০ কোটি ডলারেরও (১ বিলিয়ন) বেশি অর্থ সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দাতাগোষ্ঠী।

মঙ্গলবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম বিবিসি ও আল-জাজিরা

আরো পড়ুন: টুইন টাওয়ারে হামলার প্রথম নথি প্রকাশ করল এফবিআই

আল-জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস দাতা সম্মেলনে অর্থ সহায়তার বিষয়টি নিয়ে কথা বলেন। এসময় তিনি বলেন, দেশটির প্রয়োজনীয় চাহিদা পূরণের জন্য জাতিসংঘ ৬০ কোটি ডলার জরুরি সহায়তার জবাবে কী পরিমাণ অর্থের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল তা বলা অসম্ভব।

সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, কয়েক দশকের যুদ্ধ, ভোগান্তি এবং নিরাপত্তাহীনতার পর আফগানরা ‘সম্ভবত তাদের সবচেয়ে বিপজ্জনক সময়ের’ মুখোমুখি হচ্ছে। তিনি আরও বলেন ‘আফগানিস্তানের জনগণের একটি জীবনরেখা প্রয়োজন।’ এ সময় গুতেরেস বলেন, বর্তমানে আফগানিস্তানের আর্থিক ব্যবস্থা খুবই সীমিত। এর ফলে অর্থনীতির বেশ কিছু মৌলিক বিষয় নিয়ে সেখানে কাজ করা যাবে না।

প্রসঙ্গত, তালেবান কাবুল নিয়ন্ত্রণের আগে থেকেই আফগানিস্তানের এক কোটি ৮০ লাখ মানুষ ত্রাণ সহায়তার ওপর নির্ভরশীল ছিলেন। আর তালেবানের হাতে দেশটির ক্ষমতা যাওয়ার পর সে সংখ্যা আরো বেড়েছে বলে ধারণা করছে জাতিসংঘ।

এছাড়া অর্থ ও খাদ্য ঘাটতির কারণে এ মাসের শেষ দিকে খাদ্য সরবরাহ শেষ হয়ে যেতে পারে, যার ফলে দেশটির ১ কোটি ৪০ লাখের বেশি মানুষ অনাহারে পড়তে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।

Comments
Loading...