Prottashitoalo

আজ কালীপূজা ও দীপাবলি উৎসব

0 4

আজ কালীপূজা। দুর্গোৎসবের পর সনাতন ধর্মাবলম্বীদের দ্বিতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় উৎসব এটি। এই উৎসবটি আবার শ্যামাপূজা নামেও পরিচিত। একই সঙ্গে আজ উদযাপিত হবে দীপাবলি উৎসব।

হিন্দু সম্প্রদায় কার্তিক মাসের অমাবস্যা তিথিতে সাধারণত কালীপূজা বা শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। করোনাভাইরাস মহামারীর দুর্যোগ মাথায় নিয়েই স্বাস্থ্যবিধি মেনে এবারও এই পূজা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের নেতারা জানিয়েছেন, সারাদেশে দুর্গাপূজা ঘিরে যে নারকীয় তাণ্ডব সংঘটিত হয়েছে, এতে করে উৎসব করে পূজা করার মতো মানসিক পরিস্থিতি নেই। তবে পূজা যথানিয়মেই হবে। যেসব মন্দিরের প্রতিমা ভেঙে ফেলা হয়েছে, সেসব মন্দিরে ঘটপূজা চলবে।

বৃহস্পতিবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ১৫ মিনিট পর্যন্ত দেশের প্রতিটি মণ্ডপের সামনে কালো কাপড়ে মুখ ঢেকে ‘সাম্প্রদায়িক অপশক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াও’ শীর্ষক প্রতীকী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে বলে জানিয়েছেন পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক নির্মল কুমার চ্যাটার্জী।

আরো পড়ুন: আজ বিজয়া দশমী, প্রতিমা বিসর্জনের মধ্যদিয়ে শেষ হচ্ছে দুর্গোৎসব

শাস্ত্র মতে, কালী দেবী দুর্গারই আরেকটি শক্তি। সংস্কৃত ভাষার ‘কাল’ শব্দ থেকে কালী নামের উৎপত্তি। কালীপূজা হচ্ছে শক্তির পূজা। জগতের সকল অশুভ শক্তিকে পরাজিত করে শুভশক্তির বিজয়। কালী দেবী তার ভক্তদের কাছে ‘শ্যামা’, ‘আদ্য মা’, ‘তারা মা’, ‘চামুন্ডি’, ‘ভদ্রকালী’, ‘দেবী মহামায়া’সহ বিভিন্ন নামে পরিচিত।

কালীপূজার দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা সন্ধ্যায় বাড়িতে ও শ্মশানে প্রদীপ প্রজ্জ্বলন করে স্বর্গীয় বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনদের স্মরণ করেন। এ দিনটিকেই বলা হয় দীপাবলি। যা প্রতিবেশী দেশ ভারতে ‘দিওয়ালি’ নামেও পরিচিত। অমাবস্যার সব অমানিশা দূর করতে দীপাবলির এ রাতে প্রদীপ জ্বালানো হয়। পৃথিবীকে প্রতিনিয়ত অশুভ শক্তির হাত থেকে রক্ষার প্রতীকী আলোকবর্তিকাও এ দীপাবলি উৎসব।

দুর্গাপূজার মতো কালীপূজাতেও গৃহে বা মণ্ডপে মৃন্ময়ী প্রতিমা নির্মাণ করে পূজা করা হয়। মন্দিরে বা গৃহে প্রতিষ্ঠিত প্রস্তরময়ী বা ধাতুপ্রতিমাতেও কালীপূজা করা হয়। মধ্যরাত্রে তান্ত্রিক পদ্ধতিতে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে পূজা অনুষ্ঠিত হয়। তবে গৃহস্থ বাড়িতে সাধারণত অতান্ত্রিক ব্রাহ্মণ্যমতে আদ্যাশক্তি কালীর রূপে কালীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়।

Comments
Loading...